Delhi professor murder: রাজধানী দিল্লিতে অধ্যাপকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেবস্মিতা পালের (৪৩) দেহ। ফ্ল্যাটের বাইরে থেকে তালা দেওয়া থাকায় এবং দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মেলায় এটি একটি পরিকল্পিত খুনের ঘটনা বলেই প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবস্মিতা পাল বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টে একাই থাকতেন। তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকেন। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, দুপুর ২টা ৩৫ মিনিট নাগাদ নিউ অশোক নগর থানায় একটি ফোন আসে। দেবারতি পাল নামে এক মহিলা পুলিশকে ফোন করে জানান, তাঁর বোনের মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, সকাল থেকেই ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে বন্ধ ছিল এবং দেবস্মিতা ফোনও ধরছিলেন না। কোনও অঘটনের আশঙ্কায় দেবারতি পাল দরজার তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। তখনই তিনি বোনের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মাথায় ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছে দেবস্মিতাকে। তাঁর মাথায় গভীর ক্ষত ছিল। এছাড়াও হাতের কবজির শিরাও কাটা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইতিমধ্যে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে এলবিএস হাসপাতালে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ফ্ল্যাটে থাকা গয়না ও নগদ টাকা অক্ষত অবস্থায় মিলেছে। ফলে ডাকাতি বা লুটপাটের উদ্দেশ্যে খুন হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে না। এই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তে একাধিক দল গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে এসেছে বলে দাবি পুলিশের। খুব শীঘ্রই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদী তদন্তকারীরা। অ্যাপার্টমেন্টের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, দেবস্মিতার পরিচিত ও ঘনিষ্ঠদেরও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে তদন্তকারীরা। তাঁর সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত সংঘাত ছিল কিনা, কারও কাছ থেকে হুমকি পাচ্ছিলেন কিনা, পারিবারিক সম্পর্কই বা কেমন ছিল, তা নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনায় ২০২৩ সালে শিবাজী কলেজে স্থায়ী পদে যোগ দেওয়া এই অধ্যাপকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে সহকর্মী ও পরিচিত মহলে শোকের ছায়া নেমেছে। পাশাপাশি, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
