RBI Repo Rate: গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ কিংবা ব্যক্তিগত ঋণের কিস্তি নিয়ে চিন্তায় থাকা মধ্যবিত্তের জন্য স্বস্তির খবর। মুদ্রানীতি কমিটির জুন মাসের বৈঠকের পরে রেপো রেটে কোনও পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)। এর ফলে দেশে রেপো রেট বর্তমানে ৫.২৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রইল। একইসঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গিও বহাল রাখা হয়েছে নিরপেক্ষ অর্থাৎ ‘নিউট্রাল’-এ। যার অর্থ, প্রয়োজন অনুসারে সুদ কমানো বা বাড়ানোর রাস্তা খোলা রাখা। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ জ্বালানির দামকে ঠেলে তোলায় আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধির মাথা তোলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই কারণে সুদ বাড়ানো হতে পারে বলে মনে করছিল সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
বুধবার ৩ জুন থেকে শুরু হয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠক। ৫ জুন তা শেষ হয়েছে। এই বৈঠকের পরেই রেপো সংক্রান্ত ঘোষণা করেছেন গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। শুক্রবার ঋণনীতি পর্যালোচনা বৈঠকের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে আরবিআই গভর্নর জানান, মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) ছয় সদস্যই সর্বসম্মতিক্রমে রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। আরবিআই গভর্নর জানিয়েছেন, ‘প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের ৬.৯ শতাংশ থেকে কমে এখন ৬.৬ শতাংশ হয়েছে।’ বলে রাখা প্রয়োজন, রেপো রেট হল সেই সুদের হার, যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ দেয় আরবিআই। সাধারণত রেপো রেট কমলে ব্যাঙ্কগুলির ঋণ গ্রহণের খরচ কমে এবং তার প্রভাব পড়ে হোম লোন, কার লোন ও অন্যান্য খুচরো ঋণের সুদের হারে। বিপরীতে, রেপো রেট বাড়লে ইএমআই-র বোঝাও বাড়তে পারে।
এদিন আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, ‘বৈশ্বিক অস্থিরতার এই বর্তমান সময়েও ভারতীয় অর্থনীতি অনেক ভালো অবস্থানে আছে। গত কয়েক মাস ধরে, বিশ্ব অর্থনীতি তীব্র অনিশ্চয়তা, প্রধান বাণিজ্য পথ ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, বাজারের বর্ধিত অস্থিরতা এবং সতর্ক ব্যবসায়িক মনোভাব দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। আমি শুরুতেই জোর দিয়ে বলতে চাই, বৈশ্বিক অস্থিরতার এই বর্তমান সময়েও ভারতীয় অর্থনীতি অনেক ভালো অবস্থানে আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বৈশ্বিক ধাক্কা সত্ত্বেও সিপিআই মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়েছে, কারণ অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতিতে এর প্রভাব সীমিত। যদিও প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি সহনশীল মাত্রার কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সরবরাহজনিত ধাক্কার প্রভাব চতুর্থ ত্রৈমাসিক থেকে কমতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে অন্তর্নিহিত মুদ্রাস্ফীতির চাপ সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে।’ সব মিলিয়ে, রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তে ঋণগ্রহীতারা আপাতত স্বস্তি পেলেও ভবিষ্যতের সুদের হার নির্ভর করবে মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং দেশের আর্থিক পরিস্থিতির উপর। আপাতত ইএমআই না বাড়ায় মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে বড় কোনও ধাক্কা লাগছে না।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের শুরু থেকে আরবিআই ধারাবাহিকভাবে সুদের হার কমানোর পথে হাঁটেছিল। ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ রেপো রেট ছিল ৬.৫০ শতাংশ। পরবর্তী কয়েকটি দফায় মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে সেটিকে ৫.২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি এবং এপ্রিল মাসের ঋণনীতি বৈঠকেও সুদের হারে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। জুন মাসেও একই অবস্থান বজায় রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। ফলে টানা তিনটি নীতিগত বৈঠকে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই স্থির থাকল।