ডায়মন্ড হারবারের পাঁচ পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের। রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আগামী ২৯ এপ্রিল। তার আগে এই বড় পদক্ষেপ করল কমিশন। সাসপেন্ড হওয়া পুলিশ আধিকারিকদের মধ্যে একজন আইপিএস অফিসারও আছেন বলে জানা গিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে এই পুলিশকর্মীদের সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে জেলার পুলিশ সুপারকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সাসপেন্ড হওয়া পুলিশকর্তারা হলেন – ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আইপিএস সন্দীপ গড়াই, এসডিপিও সজল মণ্ডল, ডায়মন্ড হারবার থানার আইসি মৌসম চক্রবর্তী, ফলতা থানার আইসি অজয় বাগ, উস্তি থানার ওসি শুভেচ্ছা বাগ। এরই সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপার ডঃ ঈশানি পালকেও কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে কমিশন। গত ২২ এপ্রিল এই পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিস রিপোর্ট পাঠিয়েছিল দিল্লিতে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই আধিকারিকদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। এরই সঙ্গে এই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভোট ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক পুলিশ আধিকারিক, আইপিএসকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিনরাজ্য থেকে নিয়োগ করা হয়েছে পুলিশ পর্যবেক্ষক। বিহার, তেলাঙ্গানা, দিল্লি, পাঞ্জাব, গুজরাট থেকে বাংলায় এসেছেন বহু পুলিশ পর্যবেক্ষক। জেলা ভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। রাজ্যের ডিজিপি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে রদবদল করে কমিশন। পীযুষ পাণ্ডের জায়গায় নতুন ডিজি করা হয় সিদ্ধিনাথ গুপ্তকে। এবং সুপ্রতিম সরকারের বদলে কলকাতা পুলিশের নয়া কমিশনার হন অজয় নন্দ। এরপর কলকাতার ডিসি (সেন্ট্রাল) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে। এরই সঙ্গে রাজ্যের ১২ জায়গায় পুলিশ সুপারকেও পাল্টে দেয় নির্বাচন কমিশন। বীরভূম, ডায়মন্ড হারবার, পূর্ব মেদিনীপুর, কোচবিহার, মালদার পুলিশ সুপার পদেও রদবদল করা হয়েছিল। রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, জলপাইগুড়ি এবং প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি পদেও বদল করা হয়েছিল। বিধাননগর এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
