আমেরিকার এক অতিগুরুত্বপূর্ণ জিনিসের ওপর নাকি ইরান ১০০টি মিসাইল দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেছিল। তবে তাদের নাকি রুখে দেয় মার্কিন সেনা। গতকাল এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই সঙ্গে তিনি সেই ‘অতিগুরুত্বপূর্ণ জিনিসটির’ নাম বলতে অস্বীকার করেন। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরান দাবি করেছে যে তারা দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের ওপর হামলা করেছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই অনুমান করছেন, ট্রাম্প হয়ত আব্রাহাম লিঙ্কনের ওপর হামলার কথাই বলছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমেরিকার খুব গুরুত্বপূর্ণ এক জিনিস ধ্বংস করতে ইরান ১০০টি মিসাইল পাঠিয়েছিল। আমি সেই জিনিসটার নাম বলব না। তবে ইরানের ১০০টি মিসাইল আমরা আকাশেই ধ্বংস করেছি। প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবস্থার সাহায্যে সেই মিসাইল হামলা প্রতিহত করেছে আমেরিকা।’ এদিকে ইরান আবার দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন এফ১৮ যুদ্ধবিমানে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, ইরান আমেরিকার কোনও বিমান ধ্বংস করতে পারেনি।
এদিকে সম্প্রতি জানা গিয়েছে, ৫০ হাজার টন ওজনের ইউএসএস ত্রিপোলিকে পাঠানো হতে পারে হরমুজ প্রণালীর কাছে। ইউএসএস ত্রিপোলি আদতে উভচর আক্রমণকারী জাহাজ। এই জাহাজে ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের ২ হাজারেরও বেশি মেরিন থাকতে পারে। এটি উত্তর আরব সাগরে মোতায়েন করা হতে পারে। এই বিশাল জাহাজটি বর্তমানে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে অবস্থান করছে। ইউএসএস ত্রিপোলি ৮৪৪ ফুট দীর্ঘ। এতে এফ৩৫ যুদ্ধবিমান, এমভি২২ এবং এমএইচ৬০এস সিহক হেলিকপ্টার আছে। এই যুদ্ধজাহাজটি ২২ বা ২৩ মার্চের মধ্যে যুদ্ধ থিয়েটারে প্রবেশ করতে পারে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে শ’য়ে শ’য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ। এরই সঙ্গে কাতারে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস প্লান্টে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। যার জেরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি মূল্য রকেট গতিতে ছুটছে। ইরান বলছে, পাঁচ বন্ধুরাষ্ট্রের কোনও জাহাজকে তারা হরমুজে আটকাবে না। এই তালিকায় আছে ভারত, চিন, রাশিয়া, ইরাক এবং পাকিস্তান। এদিকে আমেরিকা আবার এর ফাঁকেও ব্যবসার ফন্দি এঁটেছিল। মিত্র দেশগুলির কাছে আমেরিকার প্রস্তাব ছিল, টাকা দিলেই মার্কিন নৌসেনা এসকর্ট করে তাদের দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করিয়ে দেবে। তবে আমেরিকা নিজেদের দৌড় বুঝতে পেরে অন্যান্য দেশের সাহায্য চাইছে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলকে উন্মুক্ত রাখার জন্য।