কলকাতার বসন্তের বাতাস তখন কিছুটা গরম, কিন্তু সুনিধি চৌহানের উপস্থিতিতে সেই উত্তাপ যেন শতগুণ বেড়ে গেল। লাল টকটকে শিমারি পোশাকে মঞ্চে আবির্ভূত হতেই করতালির বন্যায় ভেসে গেল মঞ্চ। কথায় আছে সবুরে মোয়া ফলে, এদিন তেমনটাই ঘটল। গলায় সংক্রমণের জেরে দু-সপ্তাহ কনসার্ট পিছিয়ে ছিলেন গায়িকা। এদিন তিনি এলেন, দেখলেন আর কলকাতাবাসীর হৃদয় জিতলেন।
শুধু হিন্দি হিট নয়, সুনিধি এদিন কলকাতার দর্শকদের উপহার দিলেন এক গুচ্ছ মায়াবী বাংলা গান, যা সবার মন ছুঁয়ে গেল।
লাল পোশাকে গ্ল্যামার ও এনার্জি:
সুনিধি মানেই হাই-ভোল্টেজ পারফরম্যান্স। লাল পোশাকে তাঁর সেই তেজ আর আত্মবিশ্বাস দর্শকদের মুগ্ধ করল। প্রথম গান থেকেই তিনি মঞ্চ মাতিয়ে রাখলেন। তাঁর হাঁটাচলা, অভিব্যক্তি আর মাইক হাতে গাওয়ার ধরণ বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে, তিনি বলিউডের অন্যতম সেরা ‘লাইভ পারফর্মার’। কেউ কেউ অবশ্য গায়িকার পিঠখোলা শর্ট ড্রেস নিয়ে নাক সিঁটকেছেন, নেতিবাচকতাকে পাত্তা দেন না সুনিধি। কারণ নিজের শর্তে জীবন বাঁচেন গায়িকা।
বাংলা গানের জাদুতে মায়াবী রাত:
কলকাতার দর্শকরা সুনিধির হিন্দি হিট গানের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু সুনিধি যখন মাইক হাতে নিয়ে গাইতে শুরু করলেন— ‘চোখে চোখে কথা বলো, মুখে কিছু বলো না…’, তখন গোটা অ্যাকোয়াটিকা স্তব্ধ হয়ে গেল। বাংলা গানের এই সারল্য আর সুনিধির কণ্ঠের মায়াবী ছোঁয়া মিলে এক অদ্ভুত শান্ত পরিবেশ তৈরি করল। দর্শকরা মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে তাঁর সাথে গলা মেলালেন।

দর্শকদের সাথে একাত্মতা:
সুনিধি শুধু গানই গাইলেন না, দর্শকদের সাথে সারাক্ষণ কথা বললেন। এদিন সুনিধির এরিয়াল এন্ট্রি চমকে দেয় সকলকে। শুরুতেই তিনি গাইলেন, মিল গায়ি আজ আসমান সে, ক্রেজি কিয়া রে-র মতো জনপ্রিয় বলিউডি গান। মেহবুব মেরে-র মতো বিশ বছর পুরোনো গানও সুনিধির কন্ঠে নয়া মাত্রা পেল। কলকাতার দর্শকদের প্রশংসা করে তিনি জানালেন, তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা শো হলো এই শহরে। দর্শকদের অনুরোধ মেনে তিনি তাঁর অনেক হিট বাংলা গানও গাইলেন। তাঁর গায়কীতে ছিল বাংলার সেই টান আর আবেগ।