Iran Embassy Controversy over Kashmir। ভারতের থেকে সাহায্য পেয়েও পাক চাপে কাশ্মীর নিয়ে ইউ-টার্ন ইরানের?

Spread the love

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধের মাঝে ভারত থেকে ইরানে ব্যাপক মানবিক সহায়তা ও অনুদান পাঠানো হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীর সহ ভারতের অনেক রাজ্যের মানুষ উৎসাহের সঙ্গে ইরানের জন্য সাহায্য পাঠিয়েছেন। কিন্তু এই কঠিন সময়ে সাহায্য সত্ত্বেও ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ভারতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতীয়দের অনুদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ইরানি দূতাবাস সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিল। তাতে কাশ্মীরিদের অনুদানেরও উল্লেখ ছিল। পরে পোস্টটি হঠাৎ করে মুছে ফেলা হয়। ইরানের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে পাকিস্তানের কূটনৈতিক চাপ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয়রা ইরানকে পালটা তোপ দেগেছেন।

রিপোর্ট অনুযায়ী, কাশ্মীরের এক বিধবা মহিলা তাঁর স্বামীর দেওয়া ২৮ বছর আগের সোনার গয়না ইরানের জন্য অনুদানে পাঠান। এছাড়াও অনেক কাশ্মীরি মহিলা তাঁদের সোনা এবং রুপোর গয়না, বাড়ির মূল্যবান তামার পাত্র দান করেছিলেন ইরানের জন্য। কিছু পরিবার তাদের গবাদি পশুও ছেড়ে দিয়েছে। ছোট বাচ্চারা তাদের পকেট মানির অর্থ দিয়ে দেয় ইরানের জন্য। উপত্যকায় কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে সরাসরি দিল্লির ইরানি দূতাবাসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এই আবহে কাশ্মীরিদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে একটি পোস্ট করা হয় ইরানি দূতাবাস থেকে।

ইরানি দূতাবাস তাদের টুইটে ‘ভারত’ এবং ‘কাশ্মীর’ লেখার সাথে সাথেই পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা হামলে পড়ে। ইরানের পোস্টে ভারত বিরোধী কমেন্ট করে ‘স্প্যাম’ করতে শুরু করে পাকিস্তানিরা। পরে ইরানি দূতাবাস নীরবে ‘থ্যাঙ্ক ইউ ইন্ডিয়া’ এবং ‘থ্যাঙ্ক ইউ কাশ্মীর’ পোস্ট মুছে ফেলে। এরপর সেই একই পোস্ট ফের করা হয় ইরানের তরফ থেকে। তবে সেখানে ভারতের উল্লেখ ছিল না। এই দেশের ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা ক্ষুব্ধ হন। এহেন ‘ইউ-টার্ন’ আদতে ভারতের সার্বভৌমত্মকে অসম্মান করার সামিল বলে অভিযোগ করেন অনেকে।

এদিকে এই বিতর্কের মাঝেই আবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ভারতকে ‘বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। তিনি সম্প্রতি বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে শুধুমাত্র সেই সব দেশের জাহাজ বা ট্যাঙ্কারকেই যেতে দেওয়া হচ্ছে, যে দেশগুলিকে ইরান নিজেদের বন্ধু বলে মনে করছে। এই আবহে ইরানের প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫টি দেশের নাম নেন তিনি। সেই দেশগুলি হল – ভারত, রাশিয়া, চিন, ইরাক এবং পাকিস্তান।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ কার্যত থমকে আছে ইরান যুদ্ধের আবহে। এখনও পর্যন্ত ২০টিরও বেশি জাহাজে হামলা হয়েছে এই অঞ্চলে। তবে ভারতের বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার নিরাপদে পাড়ি দিয়েছে হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া ভারতীয় জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিয়ে আসতে ইরানের সঙ্গে কথা হয়েছিল ভারতের। তবে হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে বিভিন্ন দেশের শ’য়ে শ’য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *