প্রতিটি গোপন তথ্যের বিনিময়ে ৪০০০ ইউরো। দাম ধার্য করা ছিল আগে থেকেই। তাঁর দেশ ও ন্যাটোর গোপন বিষয় সংক্রান্ত নথি রাশিয়াকে বিক্রির অভিযোগে ধরা পড়েছেন জর্জিয়া মেলোনির দেশ, ইতালির এক প্রাক্তন গুপ্তচর। ৫৯ বছর বয়সী ধৃত জেভিনো পাইরাস, গত কয়েক বছর ধরে রাশিয়ার এক গুপ্তচরের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছেন, বলে অভিযোগ। তাঁদের একসঙ্গে থাকার দৃশ্যও গোপনে ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। এই কাজে পাইরাসকে সহযোগিতা করেছেন তাঁর এক প্রাক্তন সহকর্মীও। ইতালির প্রশাসনের দাবি, এই পরিমাণ টাকা পেয়ে পাইরাস খুশি ছিলেন না। আর তা তিনি ওই রাশিয়ান গুপ্তচর তথা হ্যান্ডেলারকে নাকি একটি সাক্ষাতে জানিয়েও ছিলেন!
পার্ক কিম্বা পানশালায় কিছু ছোট ছোট কাগজের আদানপ্রদান। কখনও মাইক্রোওয়েভের মধ্যে ফোনগুলিকে রেখে দেওয়া, যাতে তাদের লোকেশন বোঝা না যায়, আবার কখনও রোমের রাস্তার ধারের দেওয়ালের ফাটলের ভিতর মেমোরি কার্ড ঢুকিয়ে রাখা। এমনই সমস্ত প্যাঁয়তারা উঠে এসেছে এই গোপন নথি বিনিময়ের প্রক্রিয়ায়।
মিখাইল আকাস্তফ, রাশিয়ার সেনার গুপ্তচর বাহিনীর এজেন্সির সদস্য। এমনই দাবি ইতালির প্রশাসনের। আস্তাকভ, মস্কোর হ্যান্ডেলার হিসাবেও কাজ করতেন বলে দাবি করছে ইতালি। এদিকে, পাইরাসের গ্রেফতারি পরোয়ানায় লেখা রয়েছে, ‘1 list MI6’ নামের একটি গোপন ফাইল পাইরাসের হাতে এসে গিয়েছিল। যেখানে ব্রিটিশ গুপ্তচর বিভাগের কোনও ১০ জনের নাম রয়েছে। পাইরাস ছাড়াও আরও ২ জন গ্রেফতার হয়েছেন। এদিকে, ইতালির সেনার অন্দরে পাইরাসদের ৫ ‘গুপ্ত-সোর্স’ও রয়েছে ইতালির তদন্তের অন্দরে।
‘দ্য টাইমস’ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী গ্রেফতারের নথি বলছে, রাশিয়ার দূতাবাসে ওপর নজরদারি চালনো ইতালির গুপ্তচর এজেন্টদের নাম জানতে চেয়েছিল মস্কো। এই এজেন্টদের মধ্যে একজনকে পাইরাস নিজের হাতে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। অভিযোগ, ইতালি কতগুলি স্টর্ম শ্যাডো মিসাইল কেনার পরিকল্পনায় রয়েছে তা মস্কোকে জানিয়ে দিয়েছিল পাইরাস। এছাড়াও রাশিয়া টি৯০ ট্যাঙ্ক নিয়ে যে ইতালি গোপনে গবেষণা করছে, তাও রাশিয়াকে পাইরাস জানান বলে জানা যাচ্ছে।

বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে ইউক্রেনের সক্ষমতা সম্পর্কে জানার বিষয়েও রুশদের আগ্রহ ছিল। কিয়েভকে, ইতালির দেওয়া ‘স্যাম্প/টি’ (Samp/T) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি সম্পর্কে তারা পাইরাসের কাছে তথ্য চেয়েছিল।