FIR Against WB Police Officer: ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার প্রাক্তন এসডিপিও মিতুনকুমার দে-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর রুজু করল পুলিশ। এক প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর এবং এক সাংবাদিকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডায়মন্ড হারবার থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, এসডিপিও পদে থাকাকালীন ওই দুই ব্যক্তিকে থানায় ডেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডায়মন্ড হারবার পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর ডাঃ তমাল কুমার হালদার এবং এক সাংবাদিক মিতুনকুমার দে-র বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের দাবি, ২০২৩ সালে ডায়মন্ড হারবার থানায় ডেকে তাঁদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছিল। কাউন্সিলরের অভিযোগ, তাঁকে বিদ্যুতের শক দেওয়া হয় এবং নগ্ন করে মারধর করা হয়েছিল। একইসঙ্গে এক সাংবাদিকও তাঁর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন।
জানা গিয়েছে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গত ১১ মে প্রথমবার ডাঃ তমাল কুমার হালদার ডায়মন্ড হারবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ১৫ জুন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বুধবার রাতে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের একাংশের মতে, অভিযোগগুলির গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে প্রাক্তন এসডিপিও মিতুনকুমার দে-কে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথি, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানও সংগ্রহ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, মিতুনকুমার দে একসময় ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি পদোন্নতি পেয়ে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হন। পরবর্তীকালে পূর্ব মেদিনীপুরেও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব সামলেছেন। ডায়মন্ড হারবারে স্থায়ী পুলিশ সুপার না থাকায় একসময় ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

পরবর্তীকালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাঁকে খড়গপুর এসআরপি পদে বদলি করা হয়। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনও মিতুনকুমার দে-র প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির উপরই নির্ভর করবে এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ।