টাটানগর-এরনাকুলাম এক্সপ্রেসের দুটি বগিতে আগুন লেগে মৃত্যু এক যাত্রীর। ঘটনাটি ঘটেছে বিশাখাপত্তনম থেকে ৬৬ কিলোমিটার দূরে ইয়ালামঞ্চিলিতে। জানা গিয়েছে, যে ২ কামরায় আগুন লাগে, তাতে মোট ১৫৮ জন যাত্রী ছিলেন। জানা গিয়েছে, গভীর রাতে এই আগুন লাগার ঘটনা জানানো হয় পুলিশকে। জানা যায়, দুই কামরা থেকে আগুন নেভানোর পর দেখা যায় বি১ কোচে একটি মৃতদেহ পড়ে আছে। মৃতের নাম চন্দ্রশেখর সুন্দরম। মৃত যাত্রীর বয়স ৭০ বছর। তিনি বিজয়ওয়াড়ার বাসিন্দা ছিলেন।
অগ্নিকাণ্ডের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি কোচকে ট্রেন থেকে আলাদা করে ফেলা হয় এরপর। ট্রেনটি তারপরে এর্নাকুলামের দিকে রওনা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কোচের যাত্রীদের জন্য নয়া কামরা সংযোজন করা হয় অন্য স্টেশনে। সেখানে তাঁদের বাসে করে পাঠিয়েছ রেল। সেখান থেকে ফের তারা ট্রেনে চাপেন। এদিকে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এই দুই কোচে আগুন লাগার কারণ নির্ণয়ের জন্য দুটি ফরেনসিক দল কাজ করছে। জানা গিয়েছে, বি১ এবং এম২ কোচ দুটিতে আগুন লেগেছিল। এই দুই কামরা প্যান্ট্রিকার লাগোয়া ছিল। এই আবহে প্যান্ট্রি থেকেই এই আগুন লেগেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ব্রেক ওভআরহিটিং থেকেও আগুন লাগতে পারে। ঘটনাস্থলে রেলের কর্মকতারাও গিয়েছেন। এদিকে এই দুর্ঘটনার জেরে বিজওয়াড়া এবং বিশাখাপত্তনম রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িক ভাবে ব্যাহত হয়েছিল। তবে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে রেলকর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রেলের তরফ থেকে জানানো হয়, আগুন লাগার বিষয়টি প্রথম নজরে আসে একজন লোকো পাইলটের। এরপরই তড়িঘড়ি পার্শ্ববর্তী স্টেশনে ট্রেনটিকে দাঁড় করানো হয়। ডাকা হয় দমকলকে। তবে দমকল ঘটনাস্থলে আসার আগেই দুটি কামরা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ততক্ষণে আতঙ্কিত যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে নেমে পড়েন। ধোঁয়ায় ছেয়ে গিয়েছিল গোটা এলাকা। এদিকে বি১ এবং এম২ কোচে থাকা যাত্রীদের সব জিনিসপত্র পুড়ে গিয়েছে। এই দুই কামরার যাত্রীদের অন্ধ্র সরকারের বাসে করে সমরলাকোটায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ট্রেনের সঙ্গে দুটি এসি কোচ জুড়ে দেওয়া হয়। তারপর তাতে করেই যাত্রীরা গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।
