সোমবার একধাক্কায় অনেকটা কমে গেল সোনার দাম। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে বাজার খোলার সময় এমসিএক্স সূচকে ১০ গ্রাম সোনার দাম কমে গিয়ে ১,৪০,১৫৮ টাকায় ঠেকে। আগেরদিন বাজার বন্ধের সময় ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল ১,৪৪,৪৯২ টাকা। সেখান একধাক্কায় তিন শতাংশ পতন হয়। তবে সেখানেই থামেনি সোনার নিম্নমুখী গ্রাফ। একটা সময় ৫.৫৯ শতাংশ বা ৮,০৮৯ টাকা কমে ১,৩৬,৪০৩ টাকায় নেমে যায় ১০ গ্রাম সোনার দাম। তারপর কিছুটা উত্থান হয়েছে হলুদ ধাতুর। আপাতত ১০ গ্রাম সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১,৩৭,৭৬৯ টাকা। যা গত সেশনের থেকে ৬,৭২৩ টাকা বা ৪.৬২ শতাংশ কম।
একইভাবে রুপোর দামেও ব্যাপক পতন হয়েছে। আজ বাজার খোলার সময়ই চার শতাংশের মতো পতন হয় রুপোর। তার ফলে গত সেশনে এমসিএক্স সূচকে যে রুপোর দাম ২,২৬,৭৭২ টাকা ছিল, সেটাই সোমবার বাজার খোলার সময় দাঁড়ায় ২,১৭,৭০২ টাকা। তারপরও জারি থাকে পতন। ছয় শতাংশের মতো কমে গিয়ে ২,১৩,১৬৬ টাকায় ঠেকে যায় এক কিলোগ্রাম রুপোর দাম। অর্থাৎ পতন হয় ১৩,৬০৬ টাকার মতো। আপাতত এক কেজি রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে ২,১৫,৭৫০ টাকা। যা আগেরদিনের থেকে ১১,০২২ টাকা কম।
কোন কোন কারণে এরকম অবস্থা হল বাজারের?
১) মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার: মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভসহ বিশ্বের বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। উচ্চ সুদের হারের কারণে বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে ডলার বা বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন, কারণ সোনা থেকে সরাসরি কোনো সুদ পাওয়া যায় না।

২) তেল ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ: ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম লাফিয়ে বাড়ছে। জ্বালানির দাম বাড়লে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করছে, যা সোনার দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
৩) বাধ্যতামূলক বিক্রি: শেয়ার বাজারে বড় ধরনের লোকসান সামাল দিতে অনেক বড় বড় বিনিয়োগকারী তাদের হাতে থাকা সোনা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। একে বাজার বিশ্লেষকরা ‘ফোর্সড সেলিং’ হিসেবে অভিহিত করছেন। লিকুইডিটি বা নগদ টাকার সংকট মেটাতে সোনার এই ব্যাপক বিক্রি বাজারে যোগান বাড়িয়ে দিয়েছে এবং দাম কমিয়ে দিয়েছে।