হার্দিক পান্ডিয়ার ২৫ বলে ৬৩ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ রানের পাহাড় খাড়া করেছিল ভারত। বিশ ওভারে ২৩১ রান তুলে দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজ হারের ক্ষতয় এদিনও নুনের ছিটে দেয় টিম ইন্ডিয়া।
৬৩ রানের মাককুটে ইনিংস খেলতে গিয়ে হার্দিক ঘটান বিরাট কাণ্ড। তাঁর ব্যাটের উড়ন্ত ছক্কায় একটু জন্য প্রাণে বাঁচলেন স্পোর্টস ব্রডকাস্টের এক ক্যামেরা অপারেটর। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে বাউন্ডারিতে দাঁড়ানো একজন ক্যামেরাম্যানের কাঁধে এসে পড়ে হার্দিকের সজোরে মারা ছক্কা।
একটু উনিশ-বিশ হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারত, ভালোভাবেই জানেন হার্দিক। ভারতীয় ইনিংস শেষ হওয়ার পরে হার্দিক নিজে ছুটে এসেছিলেন ওই ক্যামেরাপার্সনের কাছে। অলরাউন্ডার নিজে ক্যামেরা অপারেটারের ক্ষত পরিদর্শনে এগিয়ে যান, প্রাথমিক চিকিত্সা হিসাবে সরবরাহ করা আইস-প্যাকটি প্রয়োগ করতে সহায়তা করেছিলেন হার্দিক এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে তাঁকে বুকে টেনে নেন তারকা। তাঁকে বলতে শোনা গেল, ‘ঈশ্বরও আমার সাথে ছিলেন, বলটা আরেকটু উপরে লাগেনি, এটি তাকে এমন জায়গায় আঘাত করেছে যে় আগামিকাল অবশ্যই কালশিটে দাগ থাকবে তবে তিনি খুব ভাগ্যবান মানুষ ছিলেন যে বড় বিপগ ঘটেনি। আমি খুব কৃতজ্ঞ যে এটি আরও উপরে যায়নি। আমি ভিতরে সত্যিই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম কারণ এটি বেশ ক্লিন হিট ছিল। আমি কেবল ভেবেছিলাম আমি ক্ষমা চেয়ে নেব। আমি তাকে আমার কেরিয়ারে ১০-১১ বছর ধরে মাঠের ধারে দেখছি। শুধু নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম যে তিনি ঠিক আছেন। অন্যদিকে ক্যামেরাপার্সন নিজের চোট নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নন।তিনি ঘটনাকে পাত্তা না দিয়ে বলেন, ‘কিচ্ছু হয়নি, আমি ঠিক আছি’।
ক্যামেরা পার্সন চোট পাওয়ার পর ছুটে আসেন ভারতীয় টিমের ফিজিও। ক্যামেরা অপারেটর বাউন্ডারি লাইনের ডান প্রান্ত থেকে ভারতীয় ডাগআউটের ফুটেজ ক্যাপচার করছিলেন এবং পান্ডিয়ার ফ্ল্যাট স্ট্রেট ছক্কা উড়ে এসে লাগে তাঁর কাঁধে। তাঁর পরিজনেরাও চিন্তিত হয়ে পড়ে, চলে আসে ফোন। মুঠোফোনেও তিনি জানান, কিছু হয়নি। কাঁধে সামান্য় চোট লেগেছে। পরে হাসিমুখে ক্য়ামেরার জন্য় পোজ দেন, ক্যামেরার নেপথ্য়ের এই কারিগর।

পঞ্চম এবং শেষ টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের মধ্যে পান্ডিয়ার ইনিংসটি বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। টপ অর্ডার দ্বারা একটি শক্ত প্ল্যাটফর্ম সেট করার পরে অলরাউন্ডার এসেছিলেন এবং ভারতের ইনিংসকে অচিরেই ২০০-র গণ্ডি পার করতে সাহায্য করেন হার্দিক।
এদিন দলের হয়ে তিলক ভার্মা সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন। এর জন্য মাত্র ৪২ বল খরচ করেন তিলক। হার্দিক ও তিলকের শতরানে পার্টনারশিপে ভর করে ভারত ২৩২ রানের লক্ষ্যমাত্রা দেয় প্রোটিয়া শিবিকে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা কুইন্টন ডি কক এবং ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু লাভ হয়নি। ৩০ রানে ম্যাচ জিতে ৩-১ সিরিজ জয় করল ভারত।