IITian rejects 32 LPA job। ৩২ লাখ টাকার চাকরি ফিরিয়ে IIT-র স্নেহা থাকছেন প্রিয় শহরে

Spread the love

IITian rejects 32 LPA job: টাকার থেকে মনের শান্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সেজন্য ৩২ লাখ টাকা প্যাকেজের চাকরি ফিরিয়ে নিজের প্রিয় শহর বেঙ্গালুরুতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ২৫ বছরের যুবতী স্নেহা প্রিয়া। একটি বহুজাতিক সংস্থায় বার্ষিক ৩২ লাখ টাকার অফার পেয়েও অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করে দেন। বেশি বেতনের সুযোগ ছেড়ে নিজের মানসিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং চেনা পরিবেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেঙ্গালুরুতেই। সেই বহুজাতিক সংস্থার চাকরি ছেড়ে স্নেহা বর্তমানে বেঙ্গালুরুতেই একটি তুলনামূলক কম পরিচিত সংস্থায় কম বেতনে চাকরি করা শুরু করেছেন।

কে এই তরুণী এবং কী তাঁর পরিচয়?

২৫ বছরর স্নেহা আইআইটি রুরকির কৃতী ছাত্রী। ২০২৩ সালে সেখান থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে বিটেক (BTech) ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর তিনি পেশাগত জীবন শুরু করেন একজন ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে। প্রথম চাকরির সূত্রে পাড়ি জমান বেঙ্গালুরুতে। বিগত তিন বছর ধরে এই টেক-সিটিতেই বসবাস করছেন তিনি।

৩২ লাখের অফার এবং কঠিন সিদ্ধান্ত

স্নেহা জানান, কর্পোরেট জীবনের প্রথম চাকরিটি তাঁর জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। কাজের অতিরিক্ত চাপ এবং প্রতিকূল কর্মপরিবেশের কারণে তিনি মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করছিলেন। সেই কারণেই চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তিনি নতুন চাকরির সন্ধান শুরু করেন। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল এমন একটি স্থায়ী ও ভালো কর্মপরিবেশ খুঁজে পাওয়া, যেখানে কাজের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত শখ—যেমন গান গাওয়ার মতো সৃজনশীল কাজেও সময় দেওয়া যায়।

গত এপ্রিল মাসে তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হয়। একটি নামী বহুজাতিক সংস্থা থেকে তাঁর কাছে ডেটা সায়েন্টিস্ট পদের জন্য অফার আসে। যেখানে বার্ষিক প্যাকেজ দেওয়া হয়েছিল ৩২ লাৎ টাকা। শুধু তাই নয়, জয়েনিং বোনাস থেকে শুরু করে রিলোকেশন বোনাস—সব মিলিয়ে এটি ছিল যে কোনও প্রফেশনালের কাছে একটি ‘ড্রিম জব’। কিন্তু এই চাকরির একমাত্র শর্ত ছিল, স্নেহাকে বেঙ্গালুরু ছেড়ে গুরুগ্রামে শিফট হতে হবে। ৩০ জুন তাঁর গুরুগ্রামের অফিসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে স্নেহা বুঝতে পারেন, টাকার চেয়ে তাঁর কাছে জীবনের মানসিক শান্তি ও সুস্থতা অনেক বেশি দামি। ফলে সেই স্বপ্নের চাকরিটি তিনি ফিরিয়ে দেন।

কেন গুরুগ্রামের চেয়ে বেঙ্গালুরুকে বেছে নিলেন স্নেহা?

১) আপনজন ও মানসিক সাপোর্ট সিস্টেম: স্নেহা জানিয়েছেন, বেঙ্গালুরুতে তাঁর দাদা এবং বৌদি থাকেন। এছাড়া বিগত তিন বছরে সেখানে তাঁর স্কুল ও কলেজের বন্ধুদের নিয়ে একটি সুন্দর বৃত্ত তৈরি হয়েছে। যে কোনও কঠিন পরিস্থিতি বা আনন্দের মুহূর্তের সময় এই চেনা মানুষগুলোকে পাশে পাওয়া স্নেহার কাছে কোটি টাকার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *