Indian Air Force Officer Bravery। কলাইকুন্ডার আকাশে ৪ পাক ফাইটারকে তছনছ করেন! বাঁচান কলকাতাকে

Spread the love

Indian Air Force Officer Bravery: কলাইকুন্ডার আকাশে চারটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানকে তছনছ করে দিয়েছিলেন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় একদিনেই মেদিনীপুরের আকাশে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন একটি স্যাবার যুদ্ধবিমানকে। বিধ্বস্ত করেছিলেন আরও দুটিকে। তাড়া করে আরও একটিকে ভাগিয়েছিলেন। প্রয়াত হলেন ভারতীয় বায়ুসেনার সেই ‘হিরো’ তথা ভারতীয় বায়ুসেনার বীরচক্র প্রাপক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আলফ্রেড টাইরন কুক। যিনি ভারত তো বটেই পুরো বিশ্বের আকাশপথে ‘ডগফাইটের’ ইতিহাসে চিরকালের জন্য অমর হয়ে থাকবেন।

‘তাঁর সাহসিকতা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে’

সেই বীর যোদ্ধার প্রয়াণের পরে বায়ুসেনার তরফে বলা হয়েছে, ‘বীরচক্র প্রাপক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আলফ্রেড টাইরোন কুকের প্রয়াণে ভারতীয় বায়ুসেনার সকল সদস্য গভীর শোকপ্রকাশ করছেন। সামরিক বিমানের ইতিহাসে সেই যুদ্ধবীরের সাহসিকতা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। যিনি ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় অসামান্য বীরত্বের নিদর্শন রেখেছিলেন।’

সেইসঙ্গে ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে বলা হয়েছে, ‘কলাইকুন্ডার আকাশে হওয়া তাঁর সেই কিংবদন্তি ডগফাইট আকাশপথে আক্রমণাত্মক লড়াই ও অটল সংকল্পের এক অনন্য নিদর্শন হয়ে আছে। অসামান্য বীরত্ব, রণকৌশলগত দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার তোয়াক্কা না করার জন্য তাঁকে বীর চক্র সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল।’

কলাইকুন্ডায় তাণ্ডব চালিয়েছিল পাকিস্তানি বায়ুসেনা

আর পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৬৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বরের সকালে। সেদিন সকালে অতর্কিতে খড়্গপুরের কাছে কলাইকুন্ডা বায়ুঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তানের পাঁচটি স্যাবার যুদ্ধবিমান। আচমকা হামলায় মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছিল কলাইকুন্ডা। আর সেই সাফল্যের সুবাদে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে চলে গিয়েছিল পাকিস্তান।

সেই রেশ ধরে কলাইকুন্ডায় হামলা চালাতে এসেছিল পাঁচটি এফ-৮৬ পাকিস্তানি স্যাবার যুদ্ধবিমান। কিন্তু এবার সতর্ক ছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। সকাল সাড়ে ১০ টা নাগাদ রেডারে ‘ব্লিপ’ দেখতে পেয়েছিলেন রেডার অফিসার স্কোয়াড্রন লিডার ‘মামা’ সাহনি। সঙ্গে-সঙ্গে কলাইকুন্ডা বায়ুঘাঁটিকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেইসময় বায়ুঘাঁটির ৬০ মাইল উত্তরের আকাশে ছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার ১৪ স্কোয়াড্রনের ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কুক এবং ফ্লাইং অফিসার সুবোধচন্দ্র মামগেন। তাঁদের অবিলম্বে বায়ুঘাঁটিকে ‘ডিফেন্ড’ করতে ডেকে নেওয়া হয়েছিল।

১ বনাম ৪: বীরত্বের অসামান্য কাহিনী

তারপর যা হয়েছিল, তা ভারত তো বটেই, পুরো বিশ্বের যুদ্ধ ইতিহাসে চিরকালের মতো ঠাঁই পেয়ে গিয়েছে। আকাশে ‘ডগ ফাইটের’ ইতিহাস কখনও সম্পূর্ণ হবে না ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কুকের বীরত্বের কাহিনী ছাড়া। সেদিন তিনি চারটি এফ-৮৬ পাকিস্তানি স্যাবার যুদ্ধবিমানকে নিশানা করেছিলেন। মাঝ-আকাশেই চুরমার করে দিয়েছিলেন প্রথম স্যাবারকে। মৃত্যু হয়েছিল পাকিস্তানি পাইলটের।

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কুকের হাতে বিধ্বস্ত হয়েছিল দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্যাবারও। মেদিনীপুরের আকাশে চতুর্থ স্যাবারকে তাড়া করেছিলেন। এমনকী নিজের অস্ত্র ফুরিয়ে গেলেও পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানকে তাড়া করতে থাকেন। তার জেরে কলাইকুন্ডায় দ্বিতীয়বার হামলা না চালিয়েই পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল পাকিস্তানি এফ-৮৬ যুদ্ধবিমান। অনেকের মতে, সেদিন কলাইকুন্ডা বায়ুঘাঁটির পাশাপাশি কলকাতাকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *