বাস কন্ডাক্টরের ছেলে জিতলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটে

Spread the love

Delhi University Election Result: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এবিভিপির জয়ধ্বজা উড়ল। চারটি কেন্দ্রীয় পদের মধ্যে তিনটিতেই (সভাপতি, সম্পাদক এবং যুগ্ম-সম্পাদক) জিতল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরআরএস) ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। আর সহ-সভাপতির পদে জিতেছেন নির্দল প্রার্থী দীপাংশু শৌকিন। কংগ্রেস-সমর্থিত ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়ার (NSUI) টিকিট না পেয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। আর তাতেই বাজিমাত করেছেন বাস কন্ডাক্টর এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর ছেলে। সেখানে খাতাই খুলতে পারেনি NSUI। আর আইসা ও এসএফআইয়ের জোট কার্যত কোনও দাগই কাটতে পারেনি।

বাবা বাস কন্ডাক্টর ও মা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী

দীপাংশু আদতে পশ্চিম দিল্লির পেরাগড়ির বাসিন্দা। তাঁর বাবা বাস কন্ডাক্টর। মা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। বাবা চেয়েছিলেন যে ছেলে ইউপিএসসি (ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিসেস কমিশন) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিক। তবে বরাবরই ছাত্র রাজনীতির দিকে ঝোঁক ছিল দীপাংশুর। প্রাথমিকভাবে NSUI-র টিকিটে মনোনয়নও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষমুহূর্তে তাঁকে মনোনয়ন তুলে নিতে বলা হয়। সেই নির্দেশ মানতে রাজি হননি দীপাংশু। বরং নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়েই বাজিমাত করেছেন।

 

সেই জয়ের পরে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতে তিনি বলেছেন, ‘আমি এরকমই ট্রেন্ড আশা করছিলাম। আমি সব কলেজেই ভালো সমর্থন পাচ্ছিলাম। সবথেকে বড় ব্যাপার যে পড়ুয়ারা আমার সঙ্গে ছিল। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা পড়ুয়াদের পাশাপাশি যারা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়, তারাও আমায় সমর্থন করছিলেন। যারা এই রাজনীতির মধ্যে নেই, সেইসব নিরপেক্ষ বা সাধারণ পড়ুয়াদের কাছ পৌঁছানোর কাজটা খুবই কঠিন। কিন্তু আমি খুশি যে ওরা আমার সঙ্গে থেকেছে। ওরা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনের কণ্ঠস্বরকে সমর্থন করেছে।’

ABVP-র জয়জয়কার

আর তাঁর মতো জয়ের উচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছেন এবিভিপি কর্মী-সমর্থকরা। সভাপতি পদে NSUI-র বিজয় শংকরকে ২,০৫৩ ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন এবিভিপির যশ দাবাস। সম্পাদক পদে প্রায় ৭,০০০ ভোটে জিতেছেন রিয়া ছাওড়ি। আর যুগ্ম-সম্পাদক পদে লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে। ৮০০-র মতো ভোটে জিতেছেন এবিভিপির লক্ষ্যরাজ সিং।

রাষ্ট্র সর্বাগ্রে ভাবধারার জয়, বলছে ABVP

দিল্লিতে সেই জয়ের পশ্চিমবঙ্গের এবিভিপির শাখার তরফে বলা হয়েছে, ‘এই জয় রাষ্ট্র সর্বাগ্রে – এই ভাবধারার প্রতি দেশের তরুণ সমাজের আস্থা ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন। স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে সামনে রেখে পরিষদের কর্মীরা আগামিদিনেও যুবশক্তির মধ্যে দেশপ্রেম, সেবা ও জাতি গঠনের চেতনা জাগ্রত করে যাবেন – এই প্রত্যাশা রাখি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *