Indian Ex Colonel on Hasnat Abdullah। ‘হাদির পর হাসনাত’! সেভেন সিস্টার্স নিয়ে উস্কানির জবাব প্রাক্তন সেনা কর্তার

Spread the love

বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনকারীদের মধ্যে অন্যতম ‘মুখ’ হলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। বর্তমানে তিনি এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক। এহেন হাসনাত সাম্প্রতিক সময়ে বারবার ভারত বিরোধী উস্কানিমূলক মন্তব্য করে চলেছেন। আর এই পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অজয় রায়না সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্ট করেন, ‘হাদির পরে হাসনাত’। আর তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বাংলাদেশিদের মধ্যে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।

উল্লেখ্য, যে ওসমান হাদিকে গুলি করায় নতুন করে এই সব ভারত বিদ্বেষ প্রকাশ পাচ্ছে, সেই ওসমান নিজে চরম ভারত বিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই আবহে গত ১৪ ডিসেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে দাঁড়িয়ে এক জনসভায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছিলেন, ‘নয়াদিল্লি যদি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তবে ঢাকার উচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে বিচ্ছিন্ন করা এবং এই অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিদের সমর্থন করা।’

এরপর ১৭ ডিসেম্বর হাসনাত আবর বলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে লাথি মেরে বের করে দেওয়া উচিত। কুমিল্লার এক জনসভা থেকে তিনি আরও বলেন, ‘ভারত আমাদের দেশের সন্ত্রাসীদের লালন-পালন করছে, অথচ আমরা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখছি। এটা আর মেনে নেওয়া যায় না। ওরা যদি আমাদের দেশের সন্ত্রাসীদের আশ্রয়, অর্থ ও ট্রেনিং দিতে পারে, তাহলে আমরা যদি তাদের সন্ত্রাসীদের বিষয়ে একইরকম করি, সেটাই বা অপরাধ হবে কেন? সীমান্তে আমাদের মানুষকে দেখলে যদি গুলি করা হয়, আমরা বসে থাকব না। গুলি করতে না পারলে আমরা ঢিল হলেও ছুড়ব।’

কুমিল্লার সেই জনসভায় হাসনাত আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল স্বামী-স্ত্রীর মতো। ভারতীয় ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশের মুসলমানদের বছরের পর বছর জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা এর প্রতিবাদ করেছে, তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ভাই হাদিও নিহত হয়েছেন। আমাদেরও টার্গেট করা হয়েছে। আমরা মারা গেলে কী হবে? আমাদের জায়গায় আরও হাজারো মানুষ দাঁড়িয়ে যাবে।’

এদিকে হাসিনার বিদায়ের পর একাধিক জনসভায় গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদি স্লোগান তুলেছিলেন – ‘দিল্লি না ঢাকা…’। সেই ছাত্র নেতা, ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন গত ১২ ডিসেম্বর। গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এই ওসমান ভারতের বিকৃত একটি মানচিত্র পোস্ট করেছিলেন ফেসবুকে। একটি আলোচনা সভার সেই পোস্টে ভারতের থেকে পঞ্জাব, লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে বিচ্ছিন্ন দেখানো হয়েছিল। সেগুলিকে পাকিস্তানের এলাকা হিসেবে দেখানো হয় মানচিত্রে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের অধিকাংশ এলাকা, গোটা ঝাড়খণ্ড, উত্তরপূর্ব ভারত এবং মায়ানমারের আরাকান প্রদেশের উপকূলীয় এলাকাটিকে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’-এর অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এই আবহে বাংলাদেশি ছাত্রনেতাদের অভিযোগ ছিল, ওসমানকে নাকি ভারতের ‘র’ গুলি করেছে। পরে জানা যায়, ছাত্র লীগের এক প্রাক্তন নেতা এই কাজ করেছেন। এরপর বাংলাদেশে অভিযোগ ওঠে, অভিযুক্ত সেই ছাত্র লীগ নেতা নাকি ভারতে পালিয়ে চলে এসেছেন। এই নিয়ে ভারত বিদ্বেষের সুর আরও চড়াচ্ছে সেই দেশের কট্টরপন্থীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *