নিউ টাউনের বাংলাদেশি কলোনিতে আগুন

Spread the love

শীতের সন্ধ্যায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল নিউটাউন এলাকা। বুধবার সন্ধ্যায় ইকো পার্কের অদূরে অবস্থিত ঘুনি বস্তি এলাকায় এই আগুন লাগে। দ্রুত সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের শতাধিক ঝুপড়িতে। আগুনের ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে, ঘটনাস্থল থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত: এদিন সন্ধ্যায় হঠাৎই নিউটাউনের বাংলাদেশি কলোনি বা ঘুনি বস্তি এলাকায় আগুনের শিখা দেখা যায়। শীতকাল হওয়ায় আবহাওয়া শুষ্ক থাকে, ফলে ঝুপড়ি এলাকার দাহ্য পদার্থে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক ঝুপড়ি ভস্মীভূত হতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুনের তীব্রতার মধ্যেই দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঝুপড়িগুলোতে থাকা রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ফেটে যাওয়ার কারণেই এই ভয়াবহ শব্দ ও আগুনের বিস্তার।

আতঙ্ক ও উদ্ধারকার্য: অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘরছাড়া হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। ঝুপড়ির বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন। তবে এলাকাটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি হওয়ায় এবং আগুনের দাপট বেশি থাকায় নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দমকল কর্মীদের।

কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা: কীভাবে এই আগুন লাগল, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শর্ট সার্কিট নাকি রান্নার উনুন থেকে আগুন ছড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও দমকল বাহিনী। তবে বর্তমানে অগ্নিনির্বাপণ এবং প্রাণহানি রোধ করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এসআইআর বিতর্ক: এই আগুন লাগার ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে আর এক বিতর্ক। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই নাকি এই ঝুপড়ি খালি পড়েছিল। অভিযোগ ওঠে, বাংলাদেশ থেকে অনেকে এসে ওই ঝুপড়িতে বসবাস শুরু করেছিলেন। SIR শুরু হওয়ার পর তাঁরা ঘরে তালা দিয়ে চলে যান। তবে বেশ কিছু ঝুপড়িতে এখনও মানুষজন ছিল। অনেকেরই অভিযোগ, প্রমাণ লোপাটের জন্য ওই সব বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়ে তাকতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *