ভারতের ওষুধ শিল্পে বড় সাফল্য। দেশের বৃহত্তম ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা সান ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ মার্কিন সরকারের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে। এই চুক্তির ফলে আমেরিকার সাধারণ মানুষ কম দামে ওষুধ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট মেডিকেইড কর্মসূচিতে ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ বা এমএফএন মূল্য চালু করবে সান ফার্মা। সহজ কথায়, কোনও ওষুধের জন্য যতটা সম্ভব কম দাম নিশ্চিত করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য। ফলে সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় থাকা রোগীরা তুলনামূলক সস্তায় ওষুধ কিনতে পারবেন।
সান ফার্মা মঙ্গলবার একটি নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত নথিতে এই চুক্তির কথা জানিয়েছে। সংস্থার দাবি, শুধু বর্তমানে বাজারে থাকা ওষুধ নয়। ভবিষ্যতে আমেরিকায় সংস্থার নতুন উদ্ভাবনী ওষুধ বাজারে এলেও এই এমএফএন মূল্য ব্যবস্থার আওতায় তা আসবে। এই চুক্তির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। মার্কিন সরকার সান ফার্মার উদ্ভাবনী ওষুধের ক্ষেত্রে সেকশন ২৩২-এর অধীনে সম্ভাব্য শুল্ক আরোপ দুই বছরেরও বেশি সময় পিছিয়ে দিয়েছে। এর ফলে সংস্থার ব্যবসায় কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। একই সঙ্গে আমেরিকায় সান ফার্মার বিনিয়োগকেও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে চুক্তির আর্থিক ও বাণিজ্যিক শর্তের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। হোয়াইট হাউসে সান ফার্মার প্রতিনিধিত্ব করেন সংস্থার উত্তর আমেরিকা বিভাগের প্রধান রিক অ্যাসক্রফট। তিনি জানান, আমেরিকা সান ফার্মার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। ভবিষ্যতেও সেখানে বিনিয়োগ এবং ব্যবসা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আমেরিকায় গবেষণা ও উন্নয়ন থেকে শুরু করে বিক্রি, বিপণন এবং ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রেও সান ফার্মা বিনিয়োগ করছে। সংস্থার সক্রিয় ওষুধের উপাদান বা এপিআই এবং তৈরি ওষুধ—দুই ক্ষেত্রেই উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
সান ফার্মার উদ্ভাবনী ওষুধের জন্য আমেরিকা এখন সবচেয়ে বড় বাজার। সংস্থার মোট বিশ্বব্যাপী আয়ের প্রায় ২৭ শতাংশ আসে এই দেশ থেকে। ফলে মার্কিন বাজারে এই নতুন চুক্তি সান ফার্মার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমা বাজারে নিজের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ভারতীয় এই সংস্থা। চলতি বছরের শুরুতেই অর্গানন অ্যান্ড কোং-কে প্রায় ১১.৭৫ বিলিয়ন ডলারের এন্টারপ্রাইজ ভ্যালুতে অধিগ্রহণের জন্য চুক্তি করেছে সান ফার্মা।

আমেরিকার ত্বকের রোগের চিকিৎসার বাজারেও সান ফার্মার শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। সংস্থার দাবি, প্রেসক্রিপশনের হিসাবে এই ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান দ্বিতীয়। এখন ইমিউনোলজি, ত্বকের ক্যানসার এবং চক্ষু চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ব্যবসা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সান ফার্মার উদ্ভাবনী ওষুধের আন্তর্জাতিক ব্যবসা এখন সংস্থার মোট বিক্রির প্রায় ২২ শতাংশ। ফলে এই অংশের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।
আমেরিকায় ওষুধের দাম দীর্ঘদিন ধরেই বড় রাজনৈতিক ইস্যু। অনেক ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের অন্য দেশগুলির তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একই ওষুধের দাম প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। সেই কারণে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমাতে মার্কিন সরকার একাধিক ওষুধ সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করছে।