ওড়িশার চাঁদিপুর থেকে বঙ্গোপসাগরে পিনাকা দূরপাল্লার মিসাইলের সফল পরীক্ষা করা হয় ২৯ ডিসেম্বর। এই মিসাইলের এটি প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ ছিল। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে এই মিসাইলটি। এর আগে কক্সবাজার এবং হাতিয়ারের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার জন্য ২ দিনের জন্য সতর্কতা জারি করেছিল বাংলাদেশ। সেই সময়কালের মধ্যেই ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে পিনাকা লং রেঞ্জ গাইডেড রকেটের সফল লঞ্চ করে। অবশ্য বাংলাদেশের নৌবাহিনী রুটিন মহড়ার জন্যই সতর্কতা জারি করেছিল। এদিকে ভারতের তরফ থেকেও মিসাইল টেস্টের জন্য আগে থেকেই নোটাম জারি করা হয়েছিল চাঁদিপুর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ওপরে।
এই পিনাকা গাইডেড রকেটটির সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত ভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। অর্থাৎ, ভারতের উত্তরপূর্ব সীমান্ত থেকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের মতো শহর অনায়াসে এর রেঞ্জে চলে আসতে পারে। এছাড়াও বাংলাদেশের খুলনা, রাজশাহীর মতো যেকোনও বড় শহরই এই মিসাইলের রেঞ্জে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পিনাকা মিসাইলটি পরীক্ষার সময় এর উড়ান সফলভাবে ট্র্যাক করে ডিআরডিও। পরীক্ষাটির সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিল প্রুফ অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল এস্টাব্লিশমেন্ট। পরীক্ষায় রকেটটি সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত পিনাকা লঞ্চার থেকেই উৎক্ষেপণ করা হয়। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সচিব ও ডিআরডিও-র চেয়ারম্যান এই মিসাইল পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেন নিজে।
এই দূর পাল্লার গাইডেড রকেটটি ডিজাইন করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছে আর্মামেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্টাব্লিশমেন্ট। এরই সঙ্গে হাই এনার্জি ম্যাটেরিয়ালস রিসার্চ ল্যাবরেটরি, ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরি এবং রিসার্চ সেন্টার ইমারত সাহায্য করেছে। এদিক পিনাকা মিসাইলের এই সংস্করণের সফল পরীক্ষার পর ডিআরডিও-কে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, ‘দূরপাল্লার এই গাইডেড মিসাইলের সাফল্য সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণে বাড়াবে।’
