দেশ জুড়ে ইন্ডিগোর উড়ান বাতিল জারি আজও। এর আগে বৃহস্পতিবার রেকর্ড ৫৫০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল দেশজুড়ে। যার মধ্যে দিল্লিতে ১৭২, মুম্বইতে ১১৮, বেঙ্গালুরুতে ১০০, হায়দরাবাদে ৭৫, কলকাতায় ৩৫, চেন্নাইতে ২৬টি উড়ান বাতিল করা হয়েছিল। এদিকে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শনিবার ছেড়ে যাওয়া বা অবতরণ করা ১০টি উড়ানও আগেভাগেই বাতিলের ঘোষণা করে দিয়েছে ইন্ডিগো। এদিকে বৃহস্পতিবার ইন্ডিগোর অন্তত ৮৫টি উড়ান দেরিতে ছাড়ে বা অবতরণ করেছে কলকাতায়। এর মধ্যে মুম্বই, বেঙ্গালুরু, দিল্লি, জয়পুর, হায়দরাবাদ, আমদাবাদ, পাটনা ও গোয়া থেকে আসা ৩৬টি বিমান দেরিতে কলকাতায় পৌঁছেছিল। ৪৯টি উড়ান নির্ধারিত সময়ের পরে কলকাতা থেকে রওনা দেয়।
এদিকে ইন্ডিগোর পরিষেবার এই গণ্ডগোলের জেরে কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে অন্য বিমান সংস্থার টিকিটের মূল্য। কয়েকদিন আগেও ইকোনমি ক্লাসে কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরু যেতে সাধারণত খরচ হত ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। কিন্তু ইন্ডিগোর সমস্যার জেরে অন্যান্য উড়ান সংস্থাগুলির কলকাতা-বেঙ্গালুরু রুটে বিমানভাড়া বেড়ে ২১ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। এদিকে কলকাতা দিল্লি রুটে যেখানে ভাড়া ৬ থেকে ৭ হাজারের মধ্যে থাকে, সেখানে ইন্ডিগোর সমস্যার জেরে অন্য সংস্থার ভাড়া ২৫ থেকে ৪৮ হাজার পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে।
এদিকে উড়ান বিভ্রাটের জন্য ফের একবার যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে ইন্ডিগো। তারা জানিয়েছে, ক্রু-সংকট, ডিউটির সময় নিয়ে নয়া বিধি এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরেই ইন্ডিগোর এত সংখ্যক উড়ান বাতিল হচ্ছে। ১ নভেম্বর থেকে নতুন ডিউটির সময়ের নিয়ম চালু হয়েছিল। এরপর থেকেই ইন্ডিগোর বিমান বাতিলের হিড়িক শুরু হয়েছিল। তবে ডিসেম্বরে তা চরমে পৌঁছেছে। নভেম্বরে ইন্ডিগোর মোট ১২৩২টি উড়ান বাতিল হয়েছিল। এর মধ্যে ৭৫৫টি উড়ান বাতিল হয়েছিল ক্রু ঘাটতি এবং ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন বিধি কার্যকর হওয়ার জেরে। উল্লেখ্য, দেশে দৈনিক ২২০০টি উড়ান পরিচালনা করে ইন্ডিগো। এই আবহে দেশের বৃহত্তম এয়ারলাইনের উড়ান বাতিলের জেড়ে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে বিমানবন্দরগুলিতে, ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। রোষের মুখে পড়ছেন উড়ান সংস্থার কর্মীরা।
