Iran War। ইসলামাবাদ চুক্তি নিয়ে জল্পনা! ইরান-আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতা করতে গিয়ে মুখ পুড়েছে?

Spread the love

মার্কিন-ইরান যুদ্ধ শেষ করার জন্য পাকিস্তান নাকি ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল। সম্প্রতি এমনই দাবি করা হয়েছিল সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। যদিও এই বিষয়ে পাকিস্তান সরকারকে প্রশ্ন করা হলে তারা তা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মানেনি ইরান। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের কান লাল হয়েছে। এর আগে এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রয়াস বিফল হয়েছে। সেই সময় ইসলামাবাদ চটে গিয়ে দাবি করেছিল এই দাবি ভুয়ো। তবে এখন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে পাকিস্তান। যদিও তারা জানিয়েছে, শান্তি প্রক্রিয়া এখনও চলছে। এই আবহে প্রশ্ন উঠছে, সরাসরি মধ্যস্থতার চুক্তি প্রস্তাবের বিষয়টি পাকিস্তান খারিজও করেনি, আবার তা নিয়ে কিছু বলছে না, কেন? প্রস্তাব খারিজ হওয়ার জেরেই কি এই নীরবতা?

পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, ‘৪৫ জিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বা ১৫ দফা চুক্তি নিয়ে বেশ কিছু রিপোর্ট ঘোরাঘুরি করছে। তবে আমরা এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারছি না। তবে শান্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।’ উল্লেখ্য, পশ্চিমের গণমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের কাছে একটি শান্তি পরিকল্পনা জমা দিয়েছে পাকিস্তান। তবে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটিও নাকি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান চায় এই যুদ্ধের স্থায়ীভাবে অবসান হোক। ৬ এপ্রিল ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের জবাব পাঠিয়েছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি চুক্তির কাঠামোতে দুটি পর্যায় রয়েছে: প্রথমে একটি তাত্ক্ষণিক যুদ্ধবিরতি হবে, তারপরে একটি বিস্তৃত চুক্তি হবে। প্রাথমিক চুক্তিটি একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ আকারে থাকবে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই চুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে ইসলামাবাদ চুক্তি। চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীর জন্য একটি আঞ্চলিক কাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ইসলামাবাদে মুখোমুখি আলোচনায় বসবে আমেরিকা এবং ইরান। এরপরই চূড়ান্ত কথাবার্তা অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অবশ্য এই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আর পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এর আগে গত ২৯ মার্চ তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন পাকিস্তানি বিদেশমন্ত্রী। যদিও সেই বৈঠক থেকে কোনও ইতিবাচক ফলাফল মেলেনি। এই বৈঠকের আগে মিশর, তুরস্ক এবং সৌদির বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষীয় বৈঠকও করেন ইসহাক দার। বৈঠক শেষে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর বিদেশমন্ত্রীরা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে এই অঞ্চলে যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, পাকিস্তানে বৈঠক করা দেশগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত কিছু প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে সুয়েজ খালের মতো ফি কাঠামোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাকিস্তানি সূত্রের মতে, তুরস্ক, মিশর এবং সৌদি আরব এই জলপথের মাধ্যমে তেলের প্রবাহ পরিচালনা করার জন্য একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করতে পারে। সেই কনসোর্টিয়ামে নাকি পাকিস্তানকে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ বলেছে যে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই কনসোর্টিয়ামে যোগ দেবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *