ইরান যুদ্ধের আবহে গোটা বিশ্বে জ্বালানির সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতে এখনই জ্বালানির দাম না বাড়লেও এই যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে জনসাধারণের হেঁশেলে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আপাতত আগামী কয়েকদিনের জন্য এলপিজি-র ডবল সিলিন্ডারের সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মর্মে ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে জ্বালানি সংস্থাগুলি।
উল্লেখ্য, ভারত মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। এর অধিকাংশই উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে আসে। এদিকে রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে কয়েকশো জ্বালানি ট্যাঙ্কার আটকে আছে। এর মধ্যে ভারতেরও ৩০টিরও বেশি জাহাজ রয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে ভারতসহ সারা বিশ্বে জ্বালানির সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। এদিকে গ্যাস ছাড়াও ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের আমদানি হরমুজ প্রণালী থেকে আসে। এটা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি রুট। এবং এই রুটটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে অন্য বিকল্পের খোঁজে গোটা বিশ্ব।
এদিকে ভারতকে আপাতত রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য একমাসের ‘ছাড়’ দিয়েছে আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে ভারতে জ্বালানির দাম বাড়বে না বলেই আশা করা হচ্ছে। আগেই রাশিয়া জানিয়েছে, তারা ভারতে তেল পাঠাতে প্রস্তুত। ভারতীয় জলসীমায় অ-রাশিয়ান জাহাজে প্রায় ৯.৫ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল রয়েছে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা ভারতে পৌঁছাতে পারে। একটি সূত্র সরাসরি রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে। এই সব অ-রাশিয়ান কার্গোগুলি ঠিক কোথায় যাচ্ছে তা অবশ্য বলতে অস্বীকার করেছেন সেই সূত্র।

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হামলায় এখনও পর্যন্ত একাধিক ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ মার্চ ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি।