দিল্লিতে রাইসিনা সংলাপে অংশ নিয়ে ইরানের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী সইদ খতিবজাদে দাবি করলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রাখেনি ইরান। তবে ইরানি বিপ্লবী গার্ড কোর সম্প্রতি এক ট্যাঙ্কারে হামলা করেছে, সেই জাহাজে আছেন ১০ ভারতীয়। জানা গিয়েছে, বাহামাসের পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলা চালায় ইরান। একটি রিমোট কন্ট্রোল বোট দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। ইরাকের খোর আল জুবের বন্দরে এই হামলা চালানো হয়।
এদিকে রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে কয়েকশো তেলের ট্যাঙ্কার আটকে আছে। এর মধ্যে ভারতেরও ৩০টিরও বেশি জাহাজ রয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে ভারতসহ সারা বিশ্বে তেলের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের আমদানি হরমুজ প্রণালী থেকে আসে। এটা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি রুট। এবং এই রুটটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে অন্য বিকল্পের খোঁজে গোটা বিশ্ব।
এর আগে ইরানের হামলায় এখনও পর্যন্ত একাধিক ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ মার্চ ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি।

এদিকে যুদ্ধের আবহে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে ইরানি রণতরী ধ্বংস করে আমেরিকা। ইরানের সেই যুদ্ধজাহাজ ভারতের আন্তর্জাতিক নৌমহড়া ‘মিলন’-এ অংশ নিয়েছিল। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই মহড়া হয়েছিল বিশাখাপত্তনম বন্দরে। ভারতীয় নৌসেনার জারি করা বিবৃতি অনুযায়ী, গত ৪ মার্চ ভোরের দিকে কলম্বোতে অবস্থিত মেরিটাইম রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টারে বার্তা পাঠিয়ে সাহায্য চায় আইআরআইএস ডেনা। সেই সময় শ্রীলঙ্কার গল উপকূল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল ইরানি রণতরী। সেই সময় ভারতীয় নৌসেনাও এই ঘটনার বিষয়ে জানতে পারে। এবং সেই সময় ৪ মার্চ সকাল ১০টা নাগাদ ভারতীয় নৌসেনা একটি প্যাট্রোল এয়ারক্রাফ্ট মোতায়েন করে। এদিকে আকাশ থেকে জলে ব়্যাফ্ট ফেলতে সক্ষম আরও একটি বিমান মোতায়েন করা হয় ভারতের তরফ থেকে। এরই সঙ্গে কাছাকাছি থাকা আইএনএস তরঙ্গিনীকে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজে সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিকেল ৪টে নাগাদ আইএনএস তরঙ্গিনী সেখানে পৌঁছায়। পরে কোচি থেকে আইএনএস ইকশককে পাঠানো হয় ঘটনাস্থলে। ততক্ষণে শ্রীলঙ্কান নৌসেনা উদ্ধারকাজ শুরু করে দিয়েছিল।