শিল্পপতি অনিল আম্বানি ও তাঁর সংস্থা রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত অনেক ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। পিটিআই সূত্রের খবর, ইডির প্রায় ১৫টি বিশেষ দল খুব ভোরে এই তল্লাশি অভিযান শুরু করে। মুম্বইয়ের ১০ থেকে ১২টি স্থানে চলছে এই অভিযান। এছাড়া হায়দরাবাদেও একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
মুম্বইয়ের অভিজাত পালি পাহাড়ি এলাকায় অনিল আম্বানির বাড়ি ‘অ্যাবোড’ ইতিমধ্যেই অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ৪০ হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলার তদন্তে মুম্বইয়ে অনিল আম্বানির বাসভবনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। সেই বাড়িটির বাজার দর ৩৫০০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। এর কয়েকদিন পরই ইডি আজকের এই অভিযান। আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ পাচারের ব্যাপক তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, রিলায়েন্স পাওয়ারের সন্দেহজনক তহবিল তছরুপ এবং লেনদেনের তদন্তে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে।
তার আগে অবশ্য গত সেপ্টেম্বরে স্টক এক্সচেঞ্জকে দেওয়া তথ্যে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা জানিয়েছিল যে অনিল এবং আরকমের ঋণ অ্যাকাউন্টগুলিকে ‘জালিয়াতি’ খাতে রাখা হয়েছে। কর্পোরেট ইনসলভেন্সি রেজোলিউশন প্রসেসে (সিআইআরপি) যাওয়ার আগে সংস্থাটির নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ করা হয়। যদিও আরকমের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়, এই সমস্ত ঋণ দেউলিয়া প্রক্রিয়া শুরুর আগের এবং এখন তা রেজোলিউশন প্ল্যানের আওতায় বা অন্য উপায়ে নিষ্পত্তি করা উচিত।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনিল আম্বানি গোষ্ঠীর সংস্থাগুলির সঙ্গে জড়িত ঋণ কেলেঙ্কারির তদন্ত শুরু করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই আবহে ইডি বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্কের কাছ থেকে রিলায়েন্স হাউজিং ফিনান্স, আরকম, রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফিনান্স এবং রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফিনান্স সম্পর্কিত ঋণ সংক্রান্ত বিশদ তথ্য চেয়েছিল। এর আগে ২০২৪ সালের জুন মাসে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া আরকমের ঋণ অ্যাকাউন্টকেও জালিয়াতি বলে ঘোষণা করেছিল। ২০২৫ সালের অগস্ট মাসে ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াও একই পদক্ষেপ করে।
