শনিবার ফের গাজায় হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। এর আগে হামাস বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার কথা বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব আংশিক ভাবে মেনে নিয়েছিল। এই আবহে ইজরায়েকে গাজায় বোমা হামলা বন্ধের বার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাজায় এই হামলা চালাল ইজরায়েল। এই হামলায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ট্রাম্পের গাজা শান্তি প্রস্তাবের কয়েকটি বিষয়ে প্যালেস্তিনীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস সহমত হয়েছে বলে জানা যায়। এরপরই ইজরায়েলকে হামলা বন্ধের কথা বলেন ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ইজরায়েলি নেতৃত্ব নাকি তাদের দেশের সেনাকে পিছিয়ে আসারও নির্দেশ দিয়েছে এরই মধ্যে। এরই মাঝে ফের গাজায় ইজরায়েলি হামলার অভিযোগ উঠল। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তটি মেনে নিয়েছে হামাস। আর তা হল, ইজরায়েলি বন্দিদের মুক্তি। প্রায় ২ বছর পর এই ইজরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দিতে চলেছে হামাস।
এর আগে ট্রাম্প শান্তি প্রক্রিয়া মেনে নেওয়ার জন্য হামাসকে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। তারপরই ইজরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়ে দেয় হামাস। হামাসের এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, তারা (হামাস) স্থায়ী শান্তির জন্য প্রস্তুত। এমন পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের উচিত অবিলম্বে গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করা। যাতে আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বন্দিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে পারি। কারণ এই মুহূর্তে এটি করা খুব বিপজ্জনক। আমরা ইতিমধ্যে এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি। এটা নিয়ে কাজ করতে হবে। এটা শুধু গাজার ব্যাপার নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপার। যার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ শান্তি।’

এই আবহে হামাস আংশিক ভাবে সেই শান্তি চুক্তি মানতে সহমত হয়। হামাস জানিয়েছে যে তারা গাজায় ক্ষমতা ছেড়ে দিতে এবং বাকি সকল ইজরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে। গাজায় চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্প সহ আরব, ইসলামি দেশগুলি এবং আন্তর্জাতিক মহলের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে হামাস। উল্লেখ্য, এই সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মিলে দু’বছর ধরে চলা সংঘাতে ইতি টানতে ২০ দফার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই পরিকল্পনার অধীনে হামাসের হাতে বন্দি থাকা সকল মানুষকে মুক্তি দিতে হবে। ভবিষ্যতে গাজায় কোনও ভূমিকা থাকবে না এই জঙ্গি গোষ্ঠীর। ইজরায়েল প্রায় ২,০০০ বন্দিকে মুক্তি দেবে। আর তারা গাজা দখল করবে না। নেতানিয়াহু এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এরপর রবিবার পর্যন্ত হামাসকে এই শান্তি চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেন ট্রাম্প। এর পরপরই হামাস বিবৃতি জারি করে জানায়, তারা ইজরায়েলি বন্দিদের ছেড়ে দিতে সম্মত। আর তারপরই ইজরায়েলকে গাজায় বোমা বর্ষণ বন্ধ করতে বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।