এই এপ্রিল মাসেই গত বছর রক্তাক্ত হয়েছে ভূস্বর্গ কাশ্মীর। ২০২৫ সালের এপ্রিলের ২২ তারিখে সেদিন পহেলগাঁওতে রোদ ঝলমলে একদিনে কাশ্মীরের সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন একাধিক পর্যটক। নিমেষের মধ্যে জঙ্গিদের গুলিতে তাঁদের মধ্যে অনেকেই নিহত হন। সেদিনের হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ঘটনাস্থলে মৃত স্বামীর দেহ আগলে থাকা স্ত্রীর করুণ আর্তনাদের দৃশ্য,আজও যেন ভারতের বুকে দগদগে ক্ষত! সেই হামলায় যে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের নাম উঠে আসে, তারা ছিল রেজিসট্যান্স ফ্রন্ট, যে সংগঠন, পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈবার ছায়ায় বেড়ে উঠেছে। এবার সেই লস্করের একের পর এক জঙ্গি জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশের জালে। শুধু কাশ্মীর নয়। দেশের একাধিক জায়গায় ধরপাকড় চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ।
লস্কর ই তৈবার বড়সড় মডিউলের পর্দাফাঁস করল জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ। ঠিক পহেলগাঁও হানার বার্ষিকীর আগে, এই জঙ্গি মডিউলের পর্দাফাঁসের ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন আবদুল্লা ওরফে আবু হুরেইরা। জানা যাচ্ছে, এই আবু হুরেইরা গত ১৬ বছর ধরে ভারতে ছিল গা ঢাকা দিয়ে। এই লস্কর জঙ্গি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নিজেদের জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে।
রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সমন্বিত এক অভিযানে উসমান ওরফে খুবাইব নামে দ্বিতীয় এক পাকিস্তানি সন্ত্রাসীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জম্মু ও কাশ্মীর, রাজস্থান এবং হরিয়ানা জুড়ে ১৯টি স্থানে অভিযান চালিয়ে এমন সব আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার করেছেন, যা লস্কর-ই-তৈয়বাকে রসদ ও আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী একটি নেটওয়ার্কের মুখোশ উন্মোচন করেছে। জঙ্গিদের আশ্রয় ও খাবার দেওয়ার অভিযোগে শ্রীনগরের তিন বাসিন্দা,মহম্মদ নাকীব ভাট, আদিল রশিদ ভাট এবং গোলাম মহম্মদ মীর ওরফে মামাকে আটক করা হয়েছে।

তদন্ত বলছে, একাধিক জাল নথি দিয়ে একজন বিদেশি জঙ্গিকে দেশ থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করেছে লস্করের এই নেটওয়ার্ক। জানা যাচ্ছে, এই জঙ্গি মডিউলের অনেকেই প্রায় ১৬ বছর আগে ভারতে অনুপ্রবেশ করে গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। সেই সময়ে তারা প্রায় ৪০ জন বিদেশি সন্ত্রাসীকে নেতৃত্ব দিত। যে সন্ত্রাসীদের অনেককেই নিকেশ করেছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী।