এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আজ বনগাঁয় ভোটপ্রচারে গিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘বাদ পড়া ভোটারদের নাম তুলতে ট্রাইব্যুনালে যাব। চেষ্টা করব ভোটের আগেই নাম তোলার।’ উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যে সকল ভোটারের নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তারা ট্রাইব্যুনালে গিয়ে যদি তালিকায় নাম ফের ওঠেও, তারা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। কারণ, ৬ এপ্রিল মধ্যরাতে ভোটার তালিকা ফ্রিজ করা হয়েছে।
এই আবহে মমতা আজ বললেন, ‘ওরা ষড়যন্ত্র করেছে ভোট শেষে নামগুলো তুলে দেওয়ার। কোনও মেয়ে হয়ত বিয়ে করে অন্য জায়গায় চলে গেছে, তার নাম কেটে দিয়েছে। এভাবেই নাম কেটেছে। এই নামগুলো তুলতে হবে।’ সঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো আবার বলেন, ‘আমরা ডিটেনশন ক্যাম্প হতে দেব না।’ এরই সঙ্গে মতুয়াবাড়িতে কোন্দল প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘ঠাকুরবাড়িতে ভেদাভেদের রাজনীতি চলছে। আমি বলে রাখছি, এসব করে কোনও লাভ হবে না।’
৬ এপ্রিল রাতেই শেষ সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকাটি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন জানাল, সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লাখ নাম বাদ পড়েছে এবারের ভোটার তালিকা থেকে। উল্লেখ্য, বিবেচনাধীন ভোটারদের তালিকায় ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম। তার মধ্যে থেকে ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম বাদ পড়েছে। সব মিলিয়ে ৯০ লাখেরও বেশি নাম বাদ পড়ল গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ায়।
দেখা যাচ্ছে, এসআইআরে বিবেচনাধীন ভোটারদের তালিকা থেকে সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে। সেই জেলায় মোট ১১ লাখ ১ হাজার ১৪৫ জনের নাম বিবেচনাধীন ছিল। সেখান থেকে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাদ পড়েছে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম। আর এরপরই তালিকায় আছে উত্তর ২৪ পরগনা। বিবেচনাধীন ভোটারদের তালিকায় এই জেলা থেকে নাম ছিল ৫ লক্ষ ৯১ হাজার ২৫২ জনের নাম। সেখান থেকে বাদ পড়েছে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ নাম। এছাড়া দুই লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া ও মালদায়। পূর্ব বর্ধমানে ৩ লক্ষ ৬৫ হাজারের নাম বিবেচনাধীন ছিল, সেখান থেকে বাদ পড়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮০৫ জনের নাম। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫ লাখ ২২ হাজারের মধ্যে থেকে বাদ পড়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৯২৯ জনের নাম। নদিয়ায় ২ লাখ ৬৭ হাজারের মধ্যে থেকে বাদ পড়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৬২৬ জনের নাম। এবং মালদায় ৮ লাখ ২১ হাজারের মধ্যে বাদ পড়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭৫ জনের নাম।
