মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যে এলপিজির সংকট, সাধারণ মধ্যবিত্তের জীবনে বড়সড় সংকটের পাহাড় ক্রমেই খাড়া করছে! শুধু যে গ্যাসের দামই বেড়েছে তা নয়, সঙ্গে এলপিজি গ্যাস সরবরাহ নিয়েও সরকার একাধিক পদক্ষেপ করছে। এরই মাঝে হোটেল, রেস্তোরাঁর হেঁশেলে গ্যাস সংকট ক্রমেই দানবীয় আকার নিচ্ছে। এমনতাবস্থায় হোটেল বা রোস্তোরাঁ থেকে যাঁরা খাবার বাড়িতে পৌঁছে দেন, সেই ডেলিভারি এজেন্ট বা গিগ কর্মীদের পরিস্থিতি কী? পরিস্থিতির কথা তুলে ধরল, দ্য় গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম সার্ভিস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। এদিকে, দেশে ক্রমাগত এলপিজি সংকটের মধ্যে এইচসিএলর মতো তাবড় সংস্থাও নিল বড় পদক্ষেপ।
জানা গিয়েছে, চেন্নাইয়ের এইচসিএল অফিস এবার কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক ফ্রম হোম-র দিকে ঝুঁকেছে। এলপিজি সরবরাহ সংকটের প্রভাব এখন কর্পোরেট সেক্টরেও অনুভূত হচ্ছে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, রান্নার গ্যাসের ঘাটতির কারণে ক্যাফেটেরিয়া পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পর, এইচসিএলটেক তাদের চেন্নাই অফিসের কর্মীদের ১২ এবং ১৩ মার্চ বাড়ি থেকে কাজ করার বিকল্প দিয়েছে।
এদিকে, সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বলেছেন যে ভারতের বর্তমান অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়েও পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। এর আগেও সরকারের তরফে বলা হয়েছে যে, গ্যাস বুকিং এর ২.৫ দিনের মধ্যেই গ্রাহক তাঁর গ্যাস সিলিন্ডার পেতে পারেন। কোনও ভুল তথ্যের ফাঁদে পা দিয়ে গ্রাহক যেন উদ্বেগে না পড়েন। তবে গ্যাস সরবরাহ ও বুকিংএর অগ্রিম সময়কাল নিয়ে কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটছে কেন্দ্র।

এদিকে, মিডিয়া রিপোর্ট বলছে, জোম্যাটো ও সুইগির মতো ফুড ডেলিভারি সংস্থায় খাবারের অর্ডার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। তাঁদের ইউনিয়নের তরফে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যকে পরিস্থিতি ঘিরে পদক্ষেপ করতে আর্জি জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, জোমাটো, সুইগি এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলি ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের প্রতি ১০,০০০ টাকা তাৎক্ষণিক ত্রাণ দেওয়া হোক। এছাড়াও সরকারের কাছে তাঁদের একগুচ্ছ দাবি রয়েছে। রাইড- নির্ভর এই কর্মীরা, ‘ক্লাউড কিচেনের কর্মীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। যুদ্ধ-সৃষ্ট এই বিপর্যয় আমাদের বেকারত্ব এবং ঋণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’এই বার্তা দিয়েছে তাঁদের সংগঠন। তাঁদের সংগঠনের তরফে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধের মাঝে, ‘অনুমান করা হচ্ছে যে প্রায় এক কোটি শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যাঁদের মধ্যে গিগ এবং প্ল্যাটফর্মের কর্মীরা একটি বড় অংশ। বর্তমান সংকট বিপর্যয়ে পরিণত হচ্ছে।’