দলীয় ভাঙন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে এবার বিদ্রোহী নেতা-বিধায়কদের বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে তার কোনও ক্ষমা নেই। একই সঙ্গে নাম না করেই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। তবে বিদ্রোহীদের একাংশের জন্য ফেরার দরজাও খোলা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
বৃহস্পতিবার উত্তর কলকাতা তৃণমূলের জেলা সভাপতি কুণাল ঘোষের উদ্যোগে রামমোহন লাইব্রেরিতে একটি কর্মিসভার আয়োজন করা হয়। সেখানেই ফোনের মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক সময়ে দলের একাংশের বিদ্রোহ, নতুন তৃণমূল ব্লক গঠন এবং বিধায়ক-সাংসদদের দলবদলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যাঁরা দলের ত্যাগ ও সংগ্রামের সুফল ভোগ করে আজ অন্য দলে নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের মানুষ কোনওদিন ক্ষমা করবে না।
মমতা বলেন, ‘আজ যাঁদের ত্যাগের দামে অনেকেই ক্ষমতায় পৌঁছেছেন, তাঁরাই এখন নিজেদের এবং পরিবারের স্বার্থে অন্য দলে চলে যাচ্ছেন। বিশ্বাসঘাতকদের কোনও ক্ষমা নেই। আগামী দিনে জনগণই তাঁদের কাছে জবাব চাইবে।’ এরপর নাম না করেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন তিনি। মমতার বক্তব্য, ‘বিজেপি স্পনসর্ড সিপিএমের নেতা। তবে সিপিএম একটা ভালো কাজ করেছিল, ওকে বহিষ্কার করেছিল।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তবে কড়া আক্রমণের পাশাপাশি বিদ্রোহীদের একাংশকে ফিরে আসার আহ্বানও জানান তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ নিজেকে বাঁচাতে, পরিবারকে বাঁচাতে বেইমানি করেছে। কিন্তু মা আপনাকে মানুষ করল, আর আজ যখন মা অসুস্থ, তখন তাঁকে ছেড়ে চলে যাবেন? যাঁদের এখনও সুবুদ্ধি আছে, তাঁরা ফিরে আসুন।’ একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যাঁরা বর্তমান অবস্থানেই অনড় থাকবেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত “না ঘর কা, না ঘাট কা’ হয়ে যাবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক ও সাংসদের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে। দলীয় ভাঙন, নতুন পরিষদীয় ব্লক গঠন এবং নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মমতার এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একদিকে দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙা করা, অন্যদিকে বিদ্রোহীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা এবং একই সঙ্গে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ—এই তিনটি দিকই তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এখন বিদ্রোহী শিবির এই বার্তার কী জবাব দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের