রাজ্যপাল ইতিমধ্যেই বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। তবে নিজেকে এখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয় দিয়ে আসছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন দিলীপ ঘোষ। আজ মর্নিং ওয়াক করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বিধানসভাতে বসার যোগ্যতাও হারিয়ে ফেলেছেন। এখন কালীঘাটে বসে ঝালমুড়ি খাওয়া ছাড়া আর কোনও কাজ নেই তাঁর।’
খড়গপুর থেকে জয়ী বিজেপির প্রার্থী বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে দ্বিধা কাজ করছে। লোকজন এসে তাঁকে প্রভাবিত করছে, মাথায় মিথ্যা আশা ঢুকিয়ে দিয়ে যাচ্ছে, আর তিনি বিষয়গুলো ঠিকমতো বুঝতে পারছেন না। যখন তিনি আকাশ থেকে মাটিতে পড়বেন, তখন গুরুতরভাবে আঘআত পাবেন। এবং সেই আঘাত হয়ত আর কখনও পুরোপুরি সারবে না।’
উল্লেখ্য, এর আগে সংবিধানের ১৭২ (২) (বি) ধারা প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেন রাজ্যপাল আরএন রবি। এমনিতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ৭ মে। সেদিনই বিধানসভা ভেঙে দেন তিনি। বিজেপির নয়া সরকার শপথগ্রহণ করবে ২৫ বৈশাখ (৯ মে)। ব্রিগেডের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা।
প্রসঙ্গত, শুধু যে দল হেরেছে, এমনটা নয়, তিনি নিজেও নিজের আসনে হেরেছেন। তা সত্ত্বেও ভোটের ফল প্রকাশের পরে কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলন করে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে লোকভবনে গিয়ে ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর কথায়, রাজ্যের রাষ্ট্রপতি শাসন কার্যকর হলে সেটাই হোক। রেকর্ড হয়ে থাকুক সেটা। বরখাস্ত করে দিক। আর সেই দিনটি ইতিহাসে একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে থাকুক। তবে এতকিছু না করে রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দেন। এর ফলে না চাইতেও প্রাক্তন হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রথা অনুযায়ী, ফলাফল নিশ্চিত হলে মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে পদত্যাগ করেন। হার, জিত নির্বিশেষে সরকারের মেয়াদ শেষের সময় মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী যদি জয়ী হন, তাহলে তিনি নতুন করে শপথ গ্রহণ করেন। তবে এই ক্ষেত্রে মমতা হেরে গিয়েছেন। উল্লেখ্য, যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে, তাদের আমন্ত্রণ জানাবেন রাজ্যপাল। নয়া সরকার গঠনের আগে পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ জানান রাজ্যপাল। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ ছিল, বিজেপির জয় অনৈতিক। ১০০ আসন চুরি করা হয়েছে।