হেরে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে গত বিধানসভার মেয়াদ ছিল ৭ মে পর্যন্ত। এই আবহে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আরএন রবি। আর এরপরে বিধানসভার স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, ডেপুটি চিফ হুইপের ঘর বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। সেখানে আপাতত আর কারও ঢোকার অনুমতি নেই। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরে আবার পুনরায় এই দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং এই পদগুলিতে আসীন হওয়া নেতাদের জন্য তা বরাদ্দ করা হবে।
এদিকে বিধানসভায় মন্ত্রীদের ঘর থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবকটি ছবি খুলে ফেলা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রী এবং বিধানসভার অন্যত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে। বিধানসভা এবং অ্যানেক্স ভবনে পরিদর্শন যাচ্ছেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা। অ্যানেক্স ভবনে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় তৈরি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া বিধানসভার কোনও ঘরে কোনও বিদ্যুৎ সংযোগ বা এসির সমস্যা থাকলে তা মেরামতের কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগে সংবিধানের ১৭২ (২) (বি) ধারা প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেন রাজ্যপাল আরএন রবি। এমনিতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ৭ মে। সেদিনই বিধানসভা ভেঙে দেন তিনি। বিজেপির নয়া সরকার শপথগ্রহণ করবে ২৫ বৈশাখ (৯ মে)। ব্রিগেডের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা।
প্রসঙ্গত, শুধু যে দল হেরেছে, এমনটা নয়, তিনি নিজেও নিজের আসনে হেরেছেন। তা সত্ত্বেও ভোটের ফল প্রকাশের পরে কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলন করে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে লোকভবনে গিয়ে ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর কথায়, রাজ্যের রাষ্ট্রপতি শাসন কার্যকর হলে সেটাই হোক। রেকর্ড হয়ে থাকুক সেটা। বরখাস্ত করে দিক। আর সেই দিনটি ইতিহাসে একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে থাকুক। তবে এতকিছু না করে রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দেন। এর ফলে না চাইতেও প্রাক্তন হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রথা অনুযায়ী, ফলাফল নিশ্চিত হলে মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে পদত্যাগ করেন। হার, জিত নির্বিশেষে সরকারের মেয়াদ শেষের সময় মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী যদি জয়ী হন, তাহলে তিনি নতুন করে শপথ গ্রহণ করেন। তবে এই ক্ষেত্রে মমতা হেরে গিয়েছেন। উল্লেখ্য, যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে, তাদের আমন্ত্রণ জানাবেন রাজ্যপাল। নয়া সরকার গঠনের আগে পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ জানান রাজ্যপাল। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ ছিল, বিজেপির জয় অনৈতিক। ১০০ আসন চুরি করা হয়েছে।