লোকভবনে গিয়ে ইস্তফা দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সরকারিভাবে আজ থেকে মমতা ‘প্রাক্তন’ হয়ে গেলেন। কারণ সংবিধানের ১৭২ (২) (বি) ধারা প্রয়োগ করে পুরো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাই ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি। এমনিতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ৭ মে। সেদিনই বিধানসভা ভেঙে দিলেন। বিজেপির নয়া সরকার শপথগ্রহণ করবে আগামী শনিবার (৯ মে)। ব্রিগেডের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা।
‘আমরা নির্বাচনে হারিনি’, সাফ কথা মমতার
আর কেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ইস্তফা দেননি, সেটার কারণ আগেই ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন মমতা। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরদিনই তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো বলেন, ‘কেন, কীসের জন্য? আমরা তো হারিনি যে যাব। হারলে আমি যদি শপথ নিতে যেতাম, তাহলে আমি রেজিগশনটা করতাম। এখন তো কোয়েশ্চেন ডাস নট অ্যারাইজ। জোর করে দখল করে যদি কেউ মনে করে যে আমি গিয়ে রেজিগশনটা দিতে হবে – নো, নট দ্যাট। আমি এখনও বলতে চাই, আমরা নির্বাচনে হারিনি। জোর করে আমাদের হারানোর জন্য ওদের চেষ্টা এটা।’
রেকর্ড হয়ে থাকুক, সাফ জানান মমতা
একইসুরে বুধবার কালীঘাটে তৃণমূলের সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে লোকভবনে গিয়ে ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সূত্রের খবর, মমতা বলেন যে লোকভবনে গিয়ে পদত্যাগ করবেন না তিনি। রাজ্যের রাষ্ট্রপতি শাসন কার্যকর হলে সেটাই হোক। রেকর্ড হয়ে থাকুক সেটা। বরখাস্ত করে দিক। আর সেই দিনটি ইতিহাসে একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে থাকুক বলে দাবি করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

নয়া মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে জল্পনা
সেইসবের মধ্যেই জল্পনা চলছে যে নয়া মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, স্রেফ রাজনীতির নেতা বা নেত্রী হিসেবে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করতে চাইলে শুভেন্দু অধিকারীর উপরে কেউ যেতে পারেন না। কারণ পরপর দু’বার বিধানসভা নির্বাচনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন। ২০২১ সালে তাও নন্দীগ্রামে নিজের ঘরের মাটিতে হারিয়েছিলেন। ২০২৬ সালে তো মুখ্যমন্ত্রীর ডেরায় ঢুকে তাঁকে হারিয়ে দিয়েছেন। তারপরে শুভেন্দুর থেকে বঙ্গ বিজেপিতে কোনও বড় নেতা নেই বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। তাই মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তাঁরই ফেভারিট থাকার কথা।