বিমানের মধ্যেই ‘চোর, চোর’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া। সেই অভিযোগের স্বপক্ষে একটি ভিডিয়োও পোস্ট করেছেন। সেখানে ‘তৃণমূলের সব চোর’, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়া হতে থাকে। সেইসঙ্গে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘সতর্কবার্তা! আমি আজ প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি যাচ্ছিলাম। আমি (ইন্ডিগোর) ৬ই ৭১৯ ফ্লাইটের ১এফ আসনে ছিলাম। (সেইসময়) চার থেকে ছ’জন লোক একসঙ্গে বিমানে ওঠেন এবং আমার দিকে কুৎসিতভাবে তাকিয়ে বিমানের পিছনের দিকে চলে যান। ফ্লাইট অবতরণ করার পরে এবং দরজা খোলার আগে তাঁরা এই কাজটি করেন এবং ভিডিয়ো করেন। এটা কোনও নাগরিক ক্ষোভ নয়। এটা হয়রানি এবং একটি বিমানে আমার নিরাপত্তা লঙ্ঘন করে। কোনওভাবেই এই লোকজন বিমানের ভিতরে এই ধরনের হয়রানি করে পার পেয়ে যেতে পারেন না।’
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি মহুয়ার
সেইসঙ্গে ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন মহুয়া। তিনি দাবি করেছেন, অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ্যে আনতে হবে। তাঁদের ‘নো ফ্লাইং’ লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি তুলেছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ, অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন মোহন নাইডু কিঞ্জারাপু এবং অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএয়ের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন মহুয়া।

তীব্র প্রতিবাদ সপা প্রধান অখিলেশের
আর সেই ঘটনার নিন্দা করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। তিনি বলেন, ‘বিজেপি শাসনে ট্রেন ও বাস এমনিতেই মহিলাদের জন্য অনিরাপদ ছিল, আর এখন বিমানও মহিলা সাংসদদের জন্য নিরাপদ নয়, সাধারণ মহিলা বা তরুণীদের কথা তো বাদই দিন। এটাই বিজেপির নারীবিদ্বেষী মানসিকতা, যা এখন নানা অজুহাতে উন্মোচিত হচ্ছে। মহিলাদের নিজেদের ঘরেই বিজেপি সদস্যদের বুঝিয়ে বলা উচিত, জনসমক্ষে কেউ তাঁদের বোন ও মেয়েদের সঙ্গে এমন আচরণ করলে তাঁদের কেমন লাগবে।’বিজেপির পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা…, তোপ অভিষেকের
সেইসঙ্গে অখিলেশ বলেন, ‘বিজেপির পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা কেবল নারীদের অপমান করেই তৃপ্ত হয়। এই জঘন্য আচরণ বর্ণনা করতে কোনও অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করা হলেও সেগুলোও অপমানিত বোধ করত।’ উল্লেখ্য, আজ কলকাতায় এসে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের সঙ্গে দেখা করেছেন অখিলেশ।