Chandranath Rath Murder: বারাসতের ১১ নম্বর রেল গেটের সামনে থেকে উদ্ধার করা হল চন্দ্রনাথ খুনে ব্যবহৃত দ্বিতীয় বাইকটি। এর আগে গত ৭ মে এয়ারপোর্ট আড়াই নং গেটের কাছে আবর্জনা ফেলার জায়গায় মেলে খুনে ব্যবহৃত প্রছম বাইকটি। বাইকে নম্বর প্লেটটি ভুয়ো বলে জানা যায়। এই বাইকের ইঞ্জিন নম্বর থেকে শুরু করে চ্যাসিস নম্বর মুখে ফেলা হয়। তা সত্ত্বেও পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে, প্রথম বাইকটি দমদমের এক বাসিন্দার ছিল। প্রায় আড়াই মাস আগে সেই বাইকটি চুরি গিয়েছিল বলে জানান সেই মালিক। সেই চুরির বাইক ব্যবহার করেই চন্দ্রনাথ রথকে খুন করা হয়।
এদিকে চন্দ্রনাথ খুনে মোট ৭ থেকে ৮ জনের দল যুক্ত ছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। এই দলে ২ জন শার্প শুটার ছিল। এদিকে এই খুনে ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা একটি নয় বরং ২টো। পুলিশ বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দেখতে পায়, চন্দ্রনাথের গাড়ির পিছনে একটি লাল রঙের গাড়ির সন্দেহজনক গতিবিধি ছিল। পুলিশ মনে করছে, সেই গাড়িতে করে খুনে যুক্ত কয়েকজন পালিয়ে যায়। পুলিশ মে করছে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের থেকে সাহায্য নিয়েই পেশাদাররা এই খুনটি করে। এখনও পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত নিসান মাইক্রা গাড়িতে কোনও আঙুলের ছাপ পাওয়া যায়নি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন শুভেন্দুর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। রাত ১০ টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে মধ্যমগ্রামে তাঁর গাড়ি থামিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ এবং গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তাঁর বুকে ২টি গুলি লেগেছিল। সেগুলি হৃদপিণ্ড ফুটো করে দেয়। আর অপর গুলিটি তাঁর পেটের কাছে লাগে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে বুদ্ধদেবকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে ছোট যে গাড়িটি খুনে ব্যবহৃত হয়েছিল, সেটিকে খুনের পরপরই বাজেয়াপ্ত করা হয় পুলিশের তরফে। সেই গাড়িটির নম্বরটি ভুয়ো বলে জানা যায়। তবে এই গাড়ির আগের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। এই গাড়ির চ্যাসিস নম্বর সব জায়গা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকী গাড়ির রেডিয়েটরের পাশে যে স্টিকার থাকে, তাও ঘষে দেওয়া হয়েছে। এই আবহে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে পেশাদার খুনিরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।
