Maoist Leader Akash Update। কোটি টাকা মাথার দাম! বঙ্গে আত্মগোপনে মাওবাদী নেতা আকাশ?

Spread the love

Maoist Leader Akash Update: পশ্চিমবঙ্গেই আত্মগোপন করে রয়েছেন সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির একমাত্র জীবিত সদস্য অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ—এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ধৃত মাওবাদী নেতা মদন মাহাতো। ঝাড়খণ্ড পুলিশের জেরায় মদনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাংলার জঙ্গলমহল এবং ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি ও তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

কয়েকদিন আগেই ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা-খরসোওয়া জেলা পুলিশের অভিযানে জঙ্গলঘেরা দুটি গ্রাম থেকে বঙ্গ ব্রিগেডের তিন মাওবাদী নেতা-নেত্রী গ্রেফতার হন। তাঁদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ধৃতদের মধ্যে বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা সীমান্ত আঞ্চলিক কমিটির সদস্য মদন মাহাতো ওরফে শঙ্করও রয়েছেন।

জেরায় মদন জানিয়েছেন বলে দাবি, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থানার উত্তর ফুলচকের বাসিন্দা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ওরফে তিমির ওরফে মনোজ বর্তমানে বাংলাতেই গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাবাহিনীর নজরে থাকা এই মাওবাদী নেতার মাথার দাম ঝাড়খণ্ড পুলিশের তরফে এক কোটি টাকা রাখা হয়েছে। ফলে তাঁর সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ১৫ দিন আগে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল থেকে বাংলার দিকে রওনা দিয়েছিলেন মদন। গোয়েন্দাদের অনুমান, সংগঠনকে নতুন করে সাজানোর জন্য অস্ত্রের প্রয়োজন ছিল মাওবাদীদের। সেই কারণেই অস্ত্র সংগ্রহ এবং অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা চলছিল।

এর আগে প্রায় দু’বছর আগে পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি এলাকা থেকে সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সব্যসাচী গোস্বামী ওরফে কিশোর গ্রেফতার হন। তিনি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার ওয়ান্টেড তালিকাতেও ছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছিলেন, বাংলায় নতুন করে সংগঠন তৈরির পর অর্থের অভাবে নেপাল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা যায়নি। সেই অসম্পূর্ণ পরিকল্পনাই কি এবার বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

মদনের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া আর এক মাওবাদী নেতা সাগর সিং ওরফে বীরেনের কাছ থেকেও অস্ত্র কেনার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন ছিল বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সেই অর্থ সংগ্রহ করতে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগও রয়েছে। এই সূত্রেই গোটা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ।

এদিকে, মাওবাদীদের জন্য আরও বড় ধাক্কা এসেছে ঝাড়খণ্ডে। মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী নেতা সালুকা কায়েম ওরফে ডাঙ্গিল ওরফে মারু ওরফে ভুবনেশ্বর সম্প্রতি স্ত্রী পিঙ্কি এবং আর এক সদস্য কদমনী কড়ারকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা পুলিশের কাছে তাঁর মাথার দাম ছিল ৪২ লক্ষ টাকা। তাঁর আত্মসমর্পণের পর সারান্ডা এলাকাকে মাওবাদীমুক্ত বলে ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ।

তবে আকাশ-সহ বঙ্গ ব্রিগেডের আরও বেশ কয়েকজন সদস্য এখনও অধরা। তাঁদের খোঁজে ধৃত তিন মাওবাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের যৌথ বাহিনী অভিযান আরও জোরদার করেছে।

ঝাড়খণ্ড পুলিশের অনুমান, মদনদের গ্রেফতারের পর বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা আঞ্চলিক কমিটির সদস্য শচিন মান্ডি এবং তাঁর দলবল সীমান্তবর্তী কোনও গ্রামে আত্মগোপন করে থাকতে পারে। সেই সন্দেহে ঝুঁজকা, রাজাবাসা, মেঘাদহ, অপো এবং বাটালুকা-সহ একাধিক গ্রামে শুরু হয়েছে কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। পাহাড়ি ও জঙ্গলঘেরা এলাকাগুলিতে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

এই অভিযানের মধ্যেই স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘাতের ঘটনাও সামনে এসেছে। বাটালুকা গ্রামের একাধিক বাসিন্দাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলে গ্রামবাসীরা পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। কয়েক ঘণ্টা ধরে যৌথ বাহিনীকে ঘিরে রাখার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

শুধু ঝাড়খণ্ড নয়, পুরুলিয়ার বান্দোয়ান থানার সীমান্তবর্তী আসনপানি, থরকাদহ, হেঁসেলঘুটু, খড়বন, সেঁকেবাসা, বুড়িঝোর ও সিরকা-সহ একাধিক গ্রামেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাস্তায় চলছে বিশেষ নজরদারি। আকাশ সত্যিই বাংলায় আত্মগোপন করে রয়েছেন কি না, নাকি অন্য কোথাও চলে গিয়েছেন, তা খুঁজতেই এখন জোরকদমে অভিযান চালাচ্ছে দুই রাজ্যের পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *