Marco Rubio Kolkata Visit। ১৪ বছরের ‘বনবাস’ শেষ! রাজ্যে পালাবদলের পরই কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব

Spread the love

Marco Rubio Kolkata Visit: এক অদ্ভুত ও বিস্ময়কর সমাপতন প্রত্যক্ষ করছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার মাত্র কিছুদিনের মাথায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কলকাতার গুরুত্ব এক লাফে বহু গুণ বেড়ে গেল। অযোধ্যার রাজা রামচন্দ্র কাটিয়েছিলেন ১৪ বছরের বনবাস। ঠিক একইভাবে, দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফের কোনো হাই-প্রোফাইল মার্কিন বিদেশ সচিবের পা পড়তে চলেছে তিলোত্তমায়। সূত্রের খবর, চলতি মাসের শেষ দিকে ভারত সফরে আসছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও। আর তাঁর সেই হাই-ভোল্টেজ সফরের অন্যতম গন্তব্য হতে চলেছে কলকাতা।

শেষবার ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব হিলারি ক্লিন্টন কলকাতায় এসেছিলেন এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তারপর থেকে বিগত ১৪ বছরে বারাক ওবামা, ডোনাল্ড ট্রাম্প, জো বাইডেন থেকে শুরু করে ভ্লাদিমির পুতিন কিংবা শি জিনপিং- বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রপ্রধানরা ভারতে এলেও কলকাতা সর্বদা ব্রাত্যই থেকেছে। জি-২০ বা ব্রিকসের মতো মেগা সম্মেলন দেশের নানা প্রান্তে হলেও বাংলা থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছিল কূটনৈতিক মহল। তবে এ মাসের শেষে মার্কো রুবিও কলকাতায় এলে সেই দীর্ঘ খরা ও ‘বনবাসের’ অবসান ঘটবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর সরকার শপথ নেওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের এই গুরুত্ব বৃদ্ধি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কলকাতা সফরে আসতে পারেন মার্কিন বিদেশ সচিব

সূত্রের খবর, আগামী ২৩ মে থেকে ২৬ মে ভারত সফরে আসছেন মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও। নয়া দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং কোয়াড গোষ্ঠীর বিদেশ মন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দেওয়া তাঁর মূল কর্মসূচি। তিনি ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠক হতে পারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গেও। সেই সঙ্গে তিনি যোগ দেবেন কোয়াড অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি (ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া)-র বিদেশ মন্ত্রীদের বৈঠকে। ভারত সফরে মার্কো রুবিও এনার্জি সিকিউরিটি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করবেন। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার আবহে এই সফরকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।কলকাতার মার্কিন দূতাবাস সূত্রে খবর, দিল্লির ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচির মাঝেই রুবিওর একদিনের কলকাতা সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শহরে তাঁর নির্দিষ্ট কর্মসূচি কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কলকাতার পাশাপাশি আগ্রা, জয়পুর এবং নয়া দিল্লিতেও যাবেন রুবিও। পশ্চিমবঙ্গের সরকার পরিবর্তনের পরেই স্বয়ং মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেটের সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সেক্ষেত্রে কলকাতায় নতুন বিনিয়োগের কোনও রাস্তা প্রশস্ত হয় কিনা, নজর থাকবে সেদিকে। প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভারত সফরের আগে ২২ মে সুইডেন সফরে যাবেন মার্কো রুবিও। ওই সফরে তিনি ন্যাটোর সদস্য দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

কলকাতার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক

কলকাতার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস অবশ্য সবসময় মসৃণ ছিল না। ১৯৬৮ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের প্রধান তথা প্রাক্তন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব রবার্ট ম্যাকনামারাকে বামেদের তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়ে হেলিকপ্টারে করে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল। সেই থেকে উন্নত বিশ্বের নেতারা সহজে কলকাতামুখো হতেন না। ১৯৯৭ সালে মাদার টেরেসার শেষকৃত্যে হিলারি ক্লিন্টন-সহ বিশ্বের বহু রানি ও রাষ্ট্রপ্রধানরা এলেও তা কূটনৈতিক সফর ছিল না। তাই ১৪ বছর পর মার্কো রুবিও-র এই সম্ভাব্য কলকাতা সফরকে প্রতীকী অর্থে বাংলার আন্তর্জাতিক ‘বনবাস’ মুক্তির রূপেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-মার্কিন সম্পর্কের পাশাপাশি পূর্ব ভারতের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও এই সফরের মাধ্যমে নতুন করে উঠে আসতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *