MEA on PoK protests: আর্থিক সংকট এবং প্রশাসনিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠা পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১১ জনের। আহত হয়েছেন আরও ৭০ জন। আর মঙ্গলবার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করল ভারত। এক বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে পুলিশের চরম দমন-পীড়নের খবর মিলেছে, বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। এই রাষ্ট্রীয় নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানাই।
মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ইসলামাবাদের এই ‘অপকর্ম ও অপব্যবহারের’ জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে পাকিস্তানকে জবাব দিতে হবে। এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা এই পরিস্থিতিতেও পাকিস্তান থেকে ক্রমাগত ভুয়ো খবর এবং ভিডিও ছড়ানোর একটি প্রবণতা লক্ষ্য করছি। এই ঘটনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার মরিয়া প্রচেষ্টা।’ রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, ‘খবর মিলেছে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে পুলিশ চরম দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। আশা করি পাকিস্তানের এই অপকর্ম ও অপব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জবাবদিহি চাইবে।’
আগামী ২৭ জুলাই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে পুরো উপত্যকার মুখ বন্ধ করতে মোবাইল ইন্টারনেট সম্পূর্ণ ব্লক করে দেওয়া হয়েছে এবং ১৪৪ ধারা জারি করে জেএএসি-র সমস্ত কেন্দ্রীয় কার্যালয় সিল করে দিয়েছে মিলিটারি। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের ফল সরকারের বিরুদ্ধে যেতে পারে এই আশঙ্কায় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে পাক সেনা। নিষিদ্ধ করা হয়েছে নাগরিক সমাজের জোট ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-কে। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল জেএসি। তবে তার আগেই পরিস্থিতি রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। সোমবার রওয়ালাকোটের একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গের সামনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন, যেখানে এর আগে পুলিশের গুলিতে নিহত এক সমাজকর্মীর দেহ রাখা ছিল। শান্তিপূর্ণ সেই জমায়েতেই হামলার অভিযোগ ওঠে পাক রেঞ্জার্স ও পুলিশের বিরুদ্ধে। পাল্টা পুলিশের উপর আক্রমণ করে ক্ষুব্ধ জনতা। এই খণ্ডযুদ্ধে ৪ নিরাপত্তারক্ষীর পাশাপাশি ৬ সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়। ১১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও ৭০ জন।

পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে গেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং কানাডার মতো প্রথম সারির দেশগুলি তাদের নাগরিকদের জন্য জরুরি ‘ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি’ বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের স্থানীয় প্রশাসন গত সপ্তাহে বিতর্কিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপপ্রয়োগ করে ওখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বৃহত্তম নাগরিক অধিকার জোট ‘যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’-কে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা ‘ব্যান’ ঘোষণা করার পর থেকেই ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। এতেই ফুঁসে উঠেছে জনতা। জানা যাচ্ছে, সেনার সঙ্গে সংঘর্ষের পর ওই সেনা হাসপাতালের দখল নিয়েছে জনতা। এরই মাঝে মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে জেএএসি-র ডাকা বনধ।