টলিউড অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তী (Mimi Chakraborty)-কে জড়িয়ে গত কয়েকদিন ধরে ‘বনগাঁ কাণ্ড’ নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম। একাধিক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, বনগাঁ আদালতে মিমির বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁকে সশরীরে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার এই সমস্ত প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং মানহানিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়ে কড়া আইনি বিবৃতি জারি করলেন অভিনেত্রী।
সোমবার (৮ই জুন, ২০২৬) সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে পাঠানো একটি অফিসিয়াল চিঠিতে মিমি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোনও আইনি পদক্ষেপের খবর তো দূর, আদতে কোনও এফআইআর-ই (F.I.R) নেই! ‘তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই খবর’— সংবাদমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ মিমির।
মিমি তাঁর বিবৃতিতে একাধিক প্রথম সারির পোর্টালকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। ৬ই জুন প্রকাশিত ওই সমস্ত প্রতিবেদনে অভিযোগকারী তনয় শাস্ত্রীর বয়ানের ওপর ভিত্তি করে মিমির বিরুদ্ধে চার্জশিট ও ১০ দিনের মধ্যে হাজিরার দাবি করা হয়েছিল।
এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মিমি লিখেছেন: ‘এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে উক্ত সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকরা ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে দেওয়ার আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই করার প্রয়োজনটুকুও মনে করেননি। আমার বিরুদ্ধে আনা এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, মানহানিকর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সত্যবর্জিত।’
তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন রিপোর্টিং সাধারণ মানুষের দরবারে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তৈরি সুনাম ও ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

ভুয়ো খবর বন্ধ না করলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
মিমি চক্রবর্তী পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বনগাঁ আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও চার্জশিট দেওয়া হয়নি। বর্তমান তারিখ পর্যন্ত তাঁর নামে কোনও ক্রিমিনাল রেকর্ড বা এফআইআরও দায়ের নেই।
ভবিষ্যতে যাতে এই ভুয়ো খবর আর না ছড়ায়, তার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন: ‘আমি সমস্ত শ্রদ্ধেয় সংবাদমাধ্যম ও প্রকাশনা সংস্থাকে অনুরোধ করছি, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ডিজিটাল বা সোশ্যাল মিডিয়া— কোথাও যেন এই ধরণের কোনও যাচাই না করা বা মিথ্যা খবর পরিবেশন বা প্রচার না করা হয়। এরপরেও যদি কেউ এমনটা করেন, তবে তার সম্পূর্ণ দায় এবং আইনি ঝুঁকি ও খরচ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকেই বহন করতে হবে।’