ট্রাম্পের সঙ্গে বাক্যালাপের পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বললাম। ঐতিহাসিক গাজা শান্তি পরিকল্পনার সাফল্যের জন্য ওঁকে অভিনন্দন জানিয়েছি। সেইসঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনার যে অগ্রগতি হচ্ছে, তারও পর্যালোচনা করেছি। আগামিদিনেও যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছি আমরা।’ গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ফোনে কথা হল মোদী এবং ট্রাম্প। ভারতীয় পণ্যের উপরে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোয় নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটনের সম্পর্কে চিড় ধরেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষবিরতির জন্য ট্রাম্প কৃতিত্ব নিতে মরিয়া ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের মতো ট্রাম্পকে তোষামোদ করার পথে হাঁটেনি ভারত। তাই নয়াদিল্লির উপরে আরও চটে যান ট্রাম্প।তারইমধ্যে পাকিস্তানের উপরে কিছুটা খেপে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। গাজা শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে যে যে দেশগুলির নাম উল্লেখ করেছেন, তাতে পাকিস্তানের নাম বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আসলে তালটা কেটেছিল পাকিস্তানই। প্রাথমিকভাবে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনায় সমর্থন করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। কিন্তু পরে পালটি মারেন ইসহাক দার।
উল্লেখ্য, অগস্টে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। যার মধ্যে রাশিয়ার তেল কেনার অজুহাতে চাপানো জরিমানাও অন্তর্ভুক্ত আছে। সেইসঙ্গে ট্রাম্প এবং তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা ভারতের বিরুদ্ধে রাশিয়া থেকে তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে আর্থিক সাহায্য করার অভিযোগও তুলেছিলেন। নিজেরা রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করলেও ভারতকে নিয়ে উলটো-পালটা মন্তব্য করছিলেন।

সেই পরিস্থিতিতে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও জট তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই জট কেটেছে। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা আবার শুরু হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছেন যে এই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। শীঘ্রই এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন।