অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে লিবিয়ার ওপর। সেই লিবিয়াতে গিয়েই চিনা যুদ্ধবিমান জেএফ১৭ বিক্রির চুক্তি সই করল পাকিস্তান। এরই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যাচার করে গেলেন মুনির। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান নাকি ভারতের রাফাল, সুখোই, মিরাজ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। এছাড়া এস৪০০ মিসাইল সিস্টেমও ধ্বংস করেছিল যুদ্ধের সময়। এদিকে চিনা যুদ্ধবিমান বিক্রি করে মুনির দাবি করেন, সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে পাকিস্তান দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
প্রসঙ্গত, লিবিয়ার ওপর রাষ্ট্রসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে। অপরদিকে পাকিস্তান নিজে বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের নিরারত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য। এহেন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আসিম মুনির নিজে গিয়ে লিবিয়াতে অস্ত্র বিক্রির চুক্তি করলেন। জানা গিয়েছে, এই চুক্তির পরিমাণ ৪ বিলিয়ন ডলার। এই আবহে লিবিয়া সেনার জেনারেল সাদ্দাম খালিফা হফতারকে মুনির বলেন, পাকিস্তান সবসময় লিবিয়ার পাশে থাকবে। উল্লেখ্য, গাদ্দাফির মৃত্যুর পর থেকেই দুই ভাগে বিভক্ত লিবিয়া। পূর্ব লিবিয়ায় ক্ষমতায় রয়েছে প্রধানমন্ত্রী হাম্মাদ। তাঁকে সমর্থন জানাচ্ছে জেনারেল খালিফার সেনা। অপরদিকে রাষ্ট্রসংঘ স্বীকৃত সরকার চলছে পশ্চিম লিবিয়ার ত্রিপোলিতে। সেটার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দিবেইবাহ।
এই চুক্তির আওতায় হাফতারের বাহিনী ১৬টি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান, ১২টি সুপার মাশাক প্রশিক্ষণ বিমান পাবে পাকিস্তান থেকে। এদিকে লিবিয়াকে যুদ্ধবিমান বিক্রি করে তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তান নিজের সম্পর্ক খারাপ করতে চলেছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। কারণ লিবিয়া মূলত তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলির ছায়াযুদ্ধের ময়দান। এর আগে জেনরেল খালিফা সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিসরের মতো দেশের সাহায্য নিয়ে ত্রিপোলি দখলের চেষ্টা করেছিলেন। তবে তখন তুরস্কের ভাড়াটে বাহিনী আটকে দিয়েছিল তাদের। সেই থেকে পশ্চিম লিবিয়ায় তুরস্কের বাহিনী রয়েছে। আর এবার পাকিস্তান সেই তুরস্কের বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য জেনারেল হাফতারকে যুদ্ধবিনান দিচ্ছে। তবে সাম্প্রতিককালে হাফতারের সঙ্গে তুরস্ক যোগযোগ স্থাপন করেছে। এই আবহে লিবিয়ার জটিল সমীকরণ আরও জটিল হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
