আজ ‘জয় নিতাই’ বলে নিজের বক্তব্যের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঘন কুয়াশার জন্য সভাস্থলে না থাকতে পারায় প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিকে সকালের ট্রেন দুর্ঘটনায় বিজেপি সমর্থকদের মৃত্যুতেও শোকজ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী আজ বলেন, ‘নদিয়া সেই ভূমি, যেখানে চৈতন্যদেবের জন্ম হয়েছে। তাঁর বাণী এখানে জীবিত রয়েছে। সমাজকল্যাণের এই নৌকাকে মতুয়ারা আগে নিয়ে গিয়েছেন। হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাঁদ ঠাকুর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। বড়মা মাতৃত্ব বর্ষণ করেছেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা ভূমি, বাংলা ভাষা ভারতের সংস্কৃতিকে সবসময় সমৃদ্ধ করেছে। বন্দে মাতরমও তারই উদাহরণ। সম্প্রতি সংসদে বন্দে মাতরমের গুণগান করা হয়েছে। ঋষি বঙ্কিমবাবু পরাধীন ভারতে স্বাধীনতার মন্ত্রি দিয়েছিলেন বন্দে মাতরমের রূপে। এখন এই বন্দে মাতরম হবে বিকশিত ভারতের মন্ত্র।’ উল্লেখ্য, এর আগে সংসদে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। তবে সেই সময় সৌগত রায় এর প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, ‘অন্তত বঙ্কিমবাবু বলে সম্বোধন করুন’। আর সৌগতর সেই কথা মনে রেখেই এবার জনসভায় ‘বঙ্কিমবাবু’ সম্বোধন করেন মোদী।
‘গতমাসেই বিহার উন্নয়নের জন্য এনডিএ-কে বেছে নিয়েছিল। আর সেই সময় আমি বলেছিলাম, গঙ্গামা বিহার হয়েই বাংলায় পৌঁছায়। তাই বাংলায় বিজেপির জয়ের পথ তৈরি করেছে বিহারই। পশ্চিমবঙ্গে যে মহাজঙ্গলরাজ চলছে, তা থেকে মুক্তি পেতে হবে।’ এরপর তিনি নয়া স্লোগান তোলেন, ‘বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই’। এরপর তিনি বলেন, ‘বাংলার জন্য আমি অনেক কিছু করতে চাই। কিন্তু এখানে এমন সরকার আছে, যারা শুধু কাটমনিতে আটকে থাকে। এখনও বাংলার বহু প্রকল্প আটকে আছে। আমি তাই বাংলার মানুষের সামনে আমার দুঃখের কথা শোনাতে চাই। টিএমসিকে বিজেপির বিরোধিতা করতে হলে করুক। তবে আমি এটা বুঝি না, পশ্চিমবঙ্গের বিকাশকে কেন আটকে দেওয়া হচ্ছে। মোদীর বিরোধ করতে হলে করুক, কিন্তু বাংলাকে বঞ্চিত করবেন না।’

মোদী বলেন, ‘এখানে স্লোগান ওঠা উচিত- গো ব্যাক অনুপ্রবেশকারী। তবে এখানে মোদী গো ব্যাকের স্লোগান ওঠে। এটাই টিএমসির আসল চেহারা। তারা অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্যেই এসআইআরের বিরোধিতা করছে পশ্চিমবঙ্গে। প্রতিবেশী ত্রিপুরায় দেখুন, ৩০ বছরে বামপন্থীরা ত্রিপুরাকে নষ্ট করে দিয়েছিল। তবে আমরা সুযোগ পেয়ে এখন ত্রিপুরাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এখানেও বামেরা যাওয়ার পর আশা দেখা দিয়েছিল। তবে এখানে বামেদের সব বাজে বিষয় গ্রহণ করে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই বাংলার অধঃপতন হচ্ছে দ্রুত।’