বাংলাদেশের এক ইসলামি ব্যক্তির বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে চরম নোংরা মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকী। আইএসএফ বিধায়ক একেবারে স্পষ্টভাষায় জানিয়েছেন, মমতার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে। সেটা থাকবেও। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে কোনওরকম অপমানজনক মন্তব্য করলে মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন ভাঙড়ের বিধায়ক।
বিয়ে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে নোংরা মন্তব্য
আসলে গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি) ভাইরাল হয়ে যায়। তাতে দাবি করা হয় যে বাংলাদেশের এক ইসলামি ব্যক্তি বিয়ে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে চরম নোংরা মন্তব্য করেছে। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভের পারদ চড়েছে। তারইমধ্যে কড়া আক্রমণ শানালেন নৌশাদ।
নোংরা ও ভুলভাল মন্তব্যে পারদর্শী বাংলাদেশের একটি অংশ?
এমনিতে ভুলভাল কথা বলে বাংলাদেশের একটি অংশ একেবারে পারদর্শী। এক তরুণ দাবি করেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের যদি প্রত্যর্পণ না করা হয়, অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারতকে ধাক্কা দেবে বাংলাদেশ। ভারতীয় পণ্য ছাড়াই বাংলাদেশ চলতে পারবে। এখন ভারত থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ, সেটা কমিয়ে যদি এক-চতুর্থাংশ করে দেওয়া হয়, তাহলে নাকি নয়াদিল্লি ঢাকার পায়ে পড়বে। ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমাও বেঁধে দেন ওই বাংলাদেশি।

কট্টর ভারত-বিরোধী হাদির মৃত্যুর পরে হিংসা বাংলাদেশে
এমনিতে এখন বাংলাদেশে চরম অশান্তি চলছে। কট্টর ভারত-বিরোধী হাদির মৃত্যুর পরে নতুন করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশে। আগুনে পুড়িয়ে খুন করা হয় হিন্দু যুবককে। তাণ্ডব চালানো হয় বিভিন্ন প্রান্তে। বাংলাদেশের প্রথমসারির সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় আগুন। ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ের মতো বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
বুধবার রাতেও এক হিন্দু যুবককে হত্যা করা হয়েছে। যদিও মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, ‘পুলিশের তথ্য ও প্রাথমিক তদন্ত থেকে মনে করা হচ্ছে যে ঘটনাটি মোটেই সাম্প্রদায়িক হামলা নয়। এটি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ থেকে উদ্ভূত হিংসাত্মক পরিস্থিতির থেকে সৃষ্ট ঘটনা। নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী (অপরাধী) অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট চাঁদা দাবির উদ্দেশ্যে (তোলা আদায় করতে) এলাকায় উপস্থিত হন এবং বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতার সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে প্রাণ হারান। তিনি ইতিপূর্বে ২০২৩ সালে রুজুকৃত হত্যা এবং চাঁদাবাজির (তোলাবাজি) মামলা-সহ একাধিক গুরুতর মামলার আসামি ছিলেন। এসব মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও আছে।’