Baisakhi-Sovan। ‘মহুলের জীবনে যেন একটা শোভন আসে’! বিষাক্ত দাম্পত্যে ‘না’

Spread the love

২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ‘ঘরওয়াপসি’ হয়েছে। সহবাস সঙ্গী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই তৃণমূলে ফিরেছেন প্রাক্তন মেয়র। শোভনের নামের সিঁদুর পরেন বৈশাখী, যদিও তাঁদের সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতি নেই। কারণ আইনত এখনও রত্না চট্টোপাধ্যায় শোভনের স্ত্রী। তাঁদের ডিভোর্স মামলা খারিজ করেছে কোর্ট।

সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতি না থাকলেও বৈশাখী কন্যা মহুল ওরফে রিনিকে নিয়ে সুখী গৃহকোণ দুজনের। অতীতে এক সাক্ষাৎকারে শোভনের সঙ্গে সহবাস নিয়ে খুল্লমুখুল্লা মতপ্রকাশ করেছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।

শোভন-বান্ধবী আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন , ‘সহবাসের গ্লানি আর সহবাসের সৌন্দর্য দু-টোই গ্রহণ করতে হয়’। বৈশাখী যোগ করেন, ‘আমার মতো স্বাধীন মানুষ, যে লোকের কথা খুব কম চিন্তা করি, তাকেও ভাবতে হয় হোয়াট নেক্সট।’ ‘সাহসী’ নীনা গুপ্তা আশির দশকে সহবাস সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন অথচ নিজের মেয়ে মাসাবাকে সেই পথে হাঁটতে দেননি। বিয়ে করতে জোর করেছিলেন, অথচ মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ভেঙে যায় মাসাবার বিয়ে। এর জন্য আত্নগ্লানিতে ভুগেছিলেন নীনা। সেই প্রসঙ্গ টেনে আনেন বৈশাখী।

বৈশাখী বলেন, ‘মহুল (আসল নাম রিলিনা) এখন অনেক ছোট। আমি শোভনকে এখন বলি, ও আমায় (পালটা) বলে- ‘পুরো পাগলি একটা’। আমি মাঝে মাঝেই বলি, আমার জীবনে যেমন তুমি আছো, ওর জীবনে যেন একটা শোভন থাকে। আমি সত্যি জানি না আমার মেয়ে আদেও একটা ছেলেকে বিয়ে করবে কিনা। হতেই পারে ওর কোনও মেয়েকে ভালো লেগে গেল। এটা ওর জীবন। আমি মুক্তমনা। আমি কোনওদিন ওর উপর কিছু চাপিয়ে দিইনি। চাই না আমি যেমন স্বামী পেয়েছিলাম তেমন স্বামী ও পাক, তার চেয়ে শোভনের মতো কোনও পার্টনার ওর জীবনে আসুক। যে সম্পর্কে ওর গ্রোথ থাকবে, যে সম্পর্কে ওর সম্মান থাকবে। সে সম্পর্কটা নিয়ে প্রতিদিন ও আনন্দে মেতে থাকবে’।

খারাপ স্বামী কখনও ভালো বাবা হয় না বিশ্বাস বৈশাখীর, তেমনই ভালোবাসার মানুষ কোনওদিন খারাপ বাবা হয় না। প্রকাশ্যে মহুলকে নিজের সন্তান বলে পরিচয় দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি শোভন, বাবার যাবতীয় দায়িত্ব পালনে এগিয়ে এসেছেন। মহুলের স্কুলের পেরেন্টস টিচার মিটিং-এ যেতে আজ পর্যন্ত ভোলেননি শোভন চট্টোপাধ্যায়। এই নিয়ে বৈশাখী প্রশ্ন করায় জবাব দিয়েছেন, ‘যেদিন তোমার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়ে যাবে, সেদিন একটু রেস্ট নেব। এখন আমি ভাবতেও পারি না এগুলো তুমি একা করবে’।

মেয়ে মহুল আদর করে শোভনকে দুষ্টু বলে ডাকে। আবার সম্মান দিয়ে বাবাও বলে। তবে মহুল যে নামেই ডাকুক না কেন, শোভন রিলিনার জীবনে বাবার সব ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *