জামাতে ইসলামির সঙ্গে জোট করায় ইতিমধ্যেই তাসনিম জারা এনসিপি ছেড়েছিলেন। এবার সেই পথেই হাঁটালেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনুভা জাবীন। এক ফেসবুক পোস্টে এই নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, জামাতের সঙ্গে জোট করে নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেনরা। এদিকে জামাত-নাহিদদের আঁতাত নিয়ে জীবনের অভিযোগ, পুরো জুলাইকে নিয়ে রাজনৈতিক কৌশলের নাম করে তুলে দেওয়া হচ্ছে জামাতের হাতে। এরই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়ে মনে করান, এই জামাতের সাথে জোট করে ১৭ বছর ক্ষমতা থেকে দূরে ছিল বিএনপি। সেই সময়ও বিএনপির অধীনে জামাত জোটে এসেছিল। আর এখানে জামাতের অধীনে জোট করছে এনসিপি।
নিজের ফেসবুক পোস্টে জীবন লেখেন, ‘আপনারা অনেকে ভাবছেন, হয়তো জামায়াতের সাথে জোটে ঐতিহাসিক কারণ বা নারী বিষয়ের কারণে আমার আপত্তি। এর চেয়েও ভয়ঙ্কর যে কারণ, সেটা হল যে প্রক্রিয়ায় এটা হয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনী জোট ইত্যাদি লেভেল দেয়া হচ্ছে। আমি বলব এটা পরিকল্পিত। এটাকে সাজিয়ে এ পর্যন্ত আনা হয়েছে। এটা আদর্শের চেয়েও অনেক বড়, সেটা হল বিশ্বাস। মাত্র কিছুদিন আগে সারাদেশ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহের ডাক দিয়ে ১২৫ জনকে মনোনয়ন দিয়ে ৩০ জনের জন্য সিট সমঝোতা করে বাকিদের নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তে শিলমোহর বসানো হয়েছে। বিষয়টা ঠেলতে ঠেলতে একদম শেষ পর্যন্ত এনেছে যাতে কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচনও করতে না পারে। আগামিকাল মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ তারিখ। আমার অবশ্য এই মুহূর্তে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ইচ্ছা নাই। পুরো আগোছালো করে চোখের পলকে ত্যাজ্য করে দিয়েছে।’
এদিকে পদত্যাগী এনসিপি নেত্রীর আও বক্তব্য, জামাতের সঙ্গে চরমোনাই পীরের ৭০টা আসনে সমঝোতা হচ্ছে। আর গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেয়া দলের ৩০টা আসনে। এই নিয়ে তিনি আপত্তি জানান। তাঁর কথায়, মধ্যপন্থার রাজনীতিতে বিশ্বাসী ভেবেই এনসিপিতে এতদিন ছিলেন তিনি। এই নিয়ে নাহিদদের নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। জীবন লেখেন, ‘এরা নিজেদের মধ্যে রাজনীতি করতে এতো ব্যস্ত এরা কখনও দেশের জন্য নতুন একটা মধ্যপন্থার বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করতে পারবে না।’ এদিকে তাঁর আরও অভিযোগ, ইচ্ছে করে শেষ মুহূর্তে এই জোটের ঘোষণা করা হয়েছে যাতে দলের কেউ আর নির্দল হয়েও লড়তে না পারে। কারণ, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর।
