প্রত্যাবর্তনের মঞ্চটা রাঙাতে চেয়েছিলেন নীরজ চোপড়া। প্রায় এক বছর পর প্রতিযোগিতামূলক অ্যাথলেটিকসে ফিরে দোহা ডায়মন্ড লিগে নজর ছিল ভারতের অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী তারকার দিকে। তবে প্রত্যাশার সেই মঞ্চে পডিয়ামে উঠতে পারলেন না তিনি। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে চতুর্থ স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে নীরজকে। অন্যদিকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে শিরোপা জিতেছেন শ্রীলঙ্কার উদীয়মান জ্যাভলিন তারকা রুমেশ থারাঙ্গা পাথিরাগে।
দোহার খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা নীরজের দিকে বিশেষ নজর ছিল সমর্থকদের। কিন্তু নিজের সেরা ছন্দে দেখা যায়নি ভারতীয় তারকাকে। ছয় প্রচেষ্টার মধ্যে তাঁর সেরা থ্রো ছিল ৮৫.৬৯ মিটার, যা তাঁকে চতুর্থ স্থানে রাখে। যদিও এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি আসন্ন কমনওয়েলথ গেমসের যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
এদিন সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন রুমেশ থারাঙ্গা। চতুর্থ প্রচেষ্টায় ৮৮.৬৮ মিটার দূরে জ্যাভলিন ছুড়ে তিনি প্রতিযোগিতার শীর্ষে উঠে যান এবং শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান ধরে রাখেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ধারাবাহিক সাফল্যের আরেকটি প্রমাণ মিলল দোহার মঞ্চে। কয়েক সপ্তাহ আগেই ৯২.৬২ মিটার থ্রো করে এশিয়ার ইতিহাসে দ্বিতীয় সেরা জ্যাভলিন নিক্ষেপকারী হিসেবে আলোচনায় এসেছিলেন এই শ্রীলঙ্কান অ্যাথলিট।
নীরজের জন্য ফলাফলটি হতাশাজনক হলেও পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। পিঠের চোটের কারণে দীর্ঘ বিরতির পর এটিই ছিল তাঁর মৌসুমের প্রথম প্রতিযোগিতা। ফলে ম্যাচ ফিটনেস ও প্রতিযোগিতার ছন্দ ফিরে পাওয়াটাই ছিল বড় লক্ষ্য। সেই দিক থেকে দেখলে দোহার এই আসর তাঁকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি এনে দিয়েছে।আগামী মাসগুলোতে ডায়মন্ড লিগের আরও কয়েকটি পর্ব এবং কমনওয়েলথ গেমসকে সামনে রেখে প্রস্তুতি চালিয়ে যাবেন নীরজ। তবে দোহার ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে, জ্যাভলিনে এখন প্রতিযোগিতা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। আর সেই প্রতিযোগিতার নতুন মুখ হিসেবে নিজেকে শক্তভাবেই প্রতিষ্ঠিত করলেন রুমেশ থারাঙ্গা পাথিরাগে। দোহার রাত তাই একদিকে নীরজের প্রত্যাবর্তনের গল্প, অন্যদিকে এশিয়ার নতুন তারকার উত্থানের ঘোষণাও।
