নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম হয়েছিল ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি বেলা ১২ টা ১০ মিনিটে। ওড়িশার কটকে প্রসিদ্ধ আইনজীবী জানকীনাথ বসু ও মা প্রভাবতী দেবীর ১৪ টি সন্তানের মধ্যে নবম সন্তান ছিলেন সুভাষ।অন্যান্য সন্তানদের মতো সুভাষকেও প্রথমে কটকের প্রোটেস্ট্যান্ট ইউরোপীয়ান স্কুলে ভর্তি করা হয়। বারো বছর বয়সে তিনি কটকের র্যাভেনশা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। তারপর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে পড়াশোনা করেন সুভাষ।
১৯২০ সালে ইংল্যান্ডে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান অর্জন করেন সুভাষ। এর পর চাকরিও শুরু করেন। কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের অধীনে চাকরি করতে না চাওয়ায় একবছর পরই ইস্তফা দেন অকুতোভয় এই বঙ্গসন্তান।
স্কুলে পড়ার সময় বিবেকানন্দের বই পড়তেন ছোট্ট সুভাষ । বিবেকানন্দের আদর্শই তাঁকে স্বাধীনতা সংগ্রামী হতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। এমনকী স্বামীজির লেখা পড়েই জীবনের আসল উদ্দেশ্য খুঁজে পান তিনি।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ছিলেন তরুণ সুভাষের রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু। তাঁর হাত ধরেই হাতেখড়ি সুভাষের। দেশবন্ধুর স্ত্রী বাসন্তী দেবীও সুভাষকে স্নেহ করতেন। সুভাষ তাঁকে ‘মা’ বলে ডাকতেন।
রাজনীতিতে আসার কিছুদিনের মধ্যেই সুভাষ কংগ্রেস কমিটির প্রচার সচিবের পদ পান। মাঝে ইংল্যান্ডের যুবরাজের ভারতে আসার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্যে তিনি জেলও খাটেন। তবে কারামুক্তির পরই তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির সম্পাদক হয়েছিলেন ।

চিত্তরঞ্জন দাশ মেয়র থাকাকালীন সুভাষচন্দ্র বসু কলকাতা পুরসভার চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে নিযুক্ত হন।
১৯৩৭ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে তাঁর সেক্রেটারি তথা অস্ট্রেলিয়ান যুবতী এমিলির বিয়ে হয়। এরপর ১৯৪২ সালের ২৯ নভেম্বর একমাত্র কন্যার অনিতা বসুর জন্ম হয়। বর্তমানে নেতাজি-কন্যা অনিতা বসু পাফ জার্মানিতে থাকেন।
কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচনে নরমপন্থীরা বিক্ষুব্ধ হলে সুভাষ অসন্তুষ্ট হয়ে কংগ্রেস ত্যাগ করেন। তৈরি করেন “ফরওয়ার্ড ব্লক’। নতুন দলের হয়ে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন সুভাষচন্দ্র বসু।