পশ্চিমবঙ্গে সোমবার ১৩ জুলাই থেকে লাগু হচ্ছে গুন্ডাদমন আইন। কিছুদিন আগে রাজ্য বিধানসভাতে এই আইন ধ্বনি ভোটে পাশ হয়। এরপর সোমবার থেকেই সেই আইন লাগু হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যে সমরেশগঞ্জ কিম্বা ধুলিয়ানের মতো ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তা এই আইন নিশ্চিত করবে বলে আশা করছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থেকে এই নয়া আইন নিয়ে বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। বহরমপুরে দাঁড়িয়ে সেই প্রসঙ্গে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, রেল, বাস জ্বালানো, পুলিশকে মারা – এসব অতীত, নারী সুরক্ষা, পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে, মামলাগুলির বিচার দ্রুত হবে, সামসেরগঞ্জ, ধুলিয়ানে যা হয়েছে, সেসব আর হবে না। তিনি জানান, হলেই কড়া ব্যবস্থা।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথমবার মুর্শিদাবাদ সফরে এদিন পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বহরমপুরের রবীন্দ্র সদনে প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি। বৃহস্পতিবার, সড়কপথে বহরমপুরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের একাধিক বিষয় নিয়ে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ইউসিসি নিয়েও তিনি জানান, অভিন্ন দেওয়ান বিধি বা ইউসিসি দ্রুত বিধানসভায় বিল আনা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়াও তিনি জানান, রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া বিলে অনুমোদন দিয়েছেন রাজ্যপাল।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর গত ২৯ জুন, রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। যা ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিত। বিলে পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থাকে বিপুল ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বা মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারে, এমন সব কাজই সমাজবিরোধী কাজের সংজ্ঞার মধ্যে আনা যাবে। উল্লেখ্য, রাজনৈতিক হিংসা, সিন্ডিকেট,তোলাবাজি, জমি দখল,বেআইনি খনি বা বালি কারবার, সম্পত্তি ভাঙচুর, ব্যবসায় বাধাকে এই আইনের আওতায় রাখার রাস্তাও প্রশস্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়।
