New Town: কলকাতার আইটি হাব নিউটাউনের অভিজাত এলাকায় যেন ‘কুবেরের ধন’-এর হদিশ মিলল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শহরের এক গেস্ট হাউসে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকার বাণ্ডিল উদ্ধার করল পুলিশ। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া পুলিশের তল্লাশি শেষ হয়েছে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর। আর তাতেই উদ্ধার হয়েছে ২ কোটির বেশি নগদ টাকা। তা গুনতে ছ’টি মেশিন আনা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এছাড়া বাজেয়াপ্ত হয়েছে একটি গাড়ি ও স্কুটি। এই ঘটনায় এক মহিলা-সহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, সোমবার রাতে নিউটাউনের ২০ নম্বর ট্যাংকের কাছে বালিগড়ি এলাকার একটি গেস্ট হাউসে হানা দেয় পুলিশ। গেস্ট হাউসটির অন্দরে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় তদন্তকারীদের। ট্রলি ভর্তি নগদ ২ কোটি ২৭ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকার বাণ্ডিল দেখে রীতিমতো অবাক পুলিশ। উদ্ধার হওয়া টাকা গোনার জন্য আনা হয় ৬টি টাকা গোনার মেশিন। তিন ট্রলিভর্তি এই বিপুল অর্থের পাশাপাশি একটি বিলাসবহুল গাড়ি ও একটি স্কুটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, গেস্ট হাউসের মালিকের নাম প্রসন্নকুমার রায়। তবে তিনি কে, কোথায় আছেন, সে সম্পর্কে এখনও বিশেষ কিছু জানা যায়নি।
পুলিশ সূত্রে খবর, গেস্ট হাউসের সামনে থাকা একটি গাড়ি ও স্কুটির মালিক কে, তাও এখনও অজ্ঞাত। যদিও সেসব বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। কিন্তু এত টাকার উৎস কী? কোথায় লেনদেন হচ্ছিল? তা তদন্তসাপেক্ষ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই ঘটনার সঙ্গে হাওয়ালার যোগ থাকতে পারে। পাশাপাশি, তদন্তকারীদের একটি বড় অংশের ধারণা, জামতাড়া গ্যাংয়ের কায়দায় কোনও সাইবার প্রতারণা চক্র বা কল সেন্টারের আড়ালে এই অবৈধ অর্থ লেনদেন চলত। নিউটাউনের ওই গেস্ট হাউসটি কার্যত এই চক্রের ‘নিরাপদ আস্তানা’ হিসেবে ব্যবহৃত হত। এমনভাবেই তা করা হতো যাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের কারও কিছু সন্দেহ হয়নি কখনও। তবে এতদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে এই কারবার চলছিল, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনই ধৃতদের নাম বা পরিচয় প্রকাশ্যে আনতে চায়নি। এই মুহূর্তে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের মূল মাথা এবং টাকার উৎস সন্ধানে মরিয়া পুলিশ। এই ঘটনার পেছনে আরও কোনও প্রভাবশালী মাথা বা বড় কোনও আন্তর্জাতিক চক্রের হাত আছে ক না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিউটাউনের মতো এলাকায় এমন ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
