ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ঘিরে উত্তাল বাংলাদেশ। কিছুদিন আগেই ঢাকার রাস্তায় তাঁর ওপর গুলি চালনার ঘটনা ঘটে। বেশ কিছুদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতা মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন। এরপর থেকেই উত্তাল বাংলাদেশ। এরই মাঝে, খুনি ফয়সল করিম এবং তার বাইকচালক আলমগির হোসেনকে এখনও পাকড়াও করতে পারেনি ইউনুস সরকার। গোটা বাংলাদেশে তা নিয়ে তুঙ্গে চর্চা। চাপ বাড়ছে প্রশাসনের ওপর। কোথায় রয়েছে হাদির খুনিরা? এই প্রশ্নের মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চায় আচমকা উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ। বহু সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান গুঞ্জন ছড়ায়। সেই সমস্ত গুঞ্জনের মাঝে উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট।
একটা সময় অভিযোগ উঠেছিল, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের সাহায্যের অভিযোগে ২ জন নাকি মেঘালয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে মেঘালয় পুলিশ। এদিকে, বহু মহলে দাবি করা হচ্ছিল, ভারতে প্রবেশ করেছে হাদির হত্যাকারীরা। সেই দাবিকে উড়িয়ে দেয় বিএসএফ। বিএসএফ সাফ জানিয়েছে,’ দাবিগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানানো দাবি এবং বিভ্রান্তিকর, এবং এর সমর্থনে কোনও প্রমাণ নেই। মাত্র তিন দিন আগে, বাংলাদেশি গণমাধ্যম একজন আইজি-পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলেছিল যে এই ধরণের কোনও প্রমাণ নেই।’ একইসঙ্গে বিএসএফর তরফে বলা হয়েছে,’এখন, একজন ডিআইজি-স্তরের কর্মকর্তা পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করেছেন। অভিযোগ করা হয়েছিল যে মেঘালয় পুলিশ ব্যক্তিদের গ্রেফতার করেছে, কিন্তু যাচাইয়ের পর, পুলিশ ওই দাবি অস্বীকার করেছে। বাংলাদেশী গণমাধ্যমে (এই বিষয়ে) প্রকাশিত সমস্ত প্রতিবেদন ভুল।’

হাদির খুনিরা কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তরে কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী বলেছিলেন, খুনিরা ‘দেশে থাকতে পারে, বাইরেও থাকতে পারে।’ এদিকে, এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তরফে একটি পোস্ট উঠে এসেছে। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তরফে এক পোস্টে বলা হয়েছে,’আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু পোস্ট লক্ষ্য করেছি যেখানে দাবি করা হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ (স্পেশাল টাস্ক ফোর্স), একটি প্রতিবেশী দেশের সাম্প্রতিক একটি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সেখানকার বেশ কয়েকজন নাগরিককে আটক করেছে।’ এরই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ‘এই খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অনুগ্রহ করে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন।’