Owaisi on I Love Muhammad Row। ‘আই লাভ মোদী’ বলা যায়, কিন্তু ‘আই লাভ মহম্মদ’ নয়

Spread the love

‘আই লাভ মহম্মদ’ (আমি মহম্মদকে ভালোবাসি) সংক্রান্ত বিতর্কে এবার সরব হলেন এআইএমআইএম প্রধান তথা হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তাঁর কথায়, ‘আই লাভ মোদী বলা গেলে আই লাভ মহম্মদ বলা যাবে না কেন।’ সম্ভল মসজিদের মামলা প্রসঙ্গটি টেনে এনে ওয়াইসি বলেন, ‘সম্ভল মসজিদ নিয়েও মামলা চলছে। আমাদের মসজিদগুলো কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আমি যদি মুসলিম হই, তাহলে তা মহম্মদের কারণেই। দেশের স্বাধীনতায় অংশ নেওয়া ১৭ কোটি ভারতীয়দের জন্য এটাই সত্যি।’

ওয়াইসির কথায়, ‘ এই দেশে কেউ বলতে পারে – আমি মোদীকে ভালোবাসি; কিন্তু ‘আমি মহম্মদকে ভালোবাসি’ বলা যায় না। এই দেশকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? কেউ যদি বলে, ‘আমি মোদীকে ভালোবাসি’, মিডিয়াও খুশি হয়। কেউ যদি বলে ‘আমি মহম্মদকে ভালোবাসি’, তাহলে প্রতিবাদ হয়।’ এরপর উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনকে তোপ দেগে ওয়াইসি আরও বলেন, ‘আমরা সহিংসতার নিন্দা করি। কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ লাঠিচার্জ করছে এবং দোকানদাররা তাদের ওপর উলটে ফুল বর্ষণ করছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, পুলিশ কেবল ক্ষমতাসীনদের কাছেই জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে, আর কারও কাছে নয়। আগামিকাল সরকার পরিবর্তনও হতে পারে। আমি সরকারকে জিজ্ঞাসা করতে চাই যে তারা কেন এত আইন তৈরি করছে এবং তাতে কী হচ্ছে? অসমে ৩ হাজার মুসলমানকে গৃহহীন করা হয়েছে। দাবি করা হচ্ছিল যে তাদের বাড়ি সরকারি জমিতে ছিল। আইন শুধুই মাকড়সার জাল। পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের বিরক্ত হওয়া উচিত নয়। আমাদের ধৈর্য ধরে এর মোকাবিলা করতে হবে। আইনের আওতাধীন থেকে সবকিছু করা উচিত। আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।’

উল্লেখ্য, ‘আই লাভ মহম্মদ’ পোস্টার ঘিরে উত্তেজনা এবং দুর্গাপুজো ও দশেরা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উত্তরপ্রদেশের বরেলি বিভাগে টানা ৪৮ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শনিবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে বলে জানানো হয়। জেলা প্রশাসন জানায়, ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে গুজব রটানো ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই শান্তি বজায় রাখতে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বরেলির ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়াও, এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ছাড়াও, প্রভিনশিয়াল আর্মড কনস্ট্যাবুলারি ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করে টহল এবং নজরদারি চালাচ্ছে। শুধু বরেলি নয়, পার্শ্ববর্তী শাহজাহানপুর, পিলভিট এবং বদাউন জেলায়ও সতর্কতা জারি করেছেন ডিভিশনাল কমিশনার ভূপেন্দ্র চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার নমাজের পর শহরের কোতওয়ালি থানার কাছে একটি মসজিদের বাইরে প্রায় ২০০০ মানুষ বিক্ষোভে জড়ো হয়েছিলেন। তখনই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায়, চলে ইটবৃষ্টি। ‘আই লাভ মহম্মদ’ পোস্টার বিতর্কের প্রতিবাদে ওই বিক্ষোভের আহ্বান করেছিলেন মৌলানা তৌকির খান। সেই অশান্তির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৮১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের একাংশের সম্পত্তিও বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যেই বুধবার রাতে সিবি গঞ্জ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারের ঘটনায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, দুজনেই গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাঁদের গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাঁরা পুলিশের হেফাজতেই রয়েছে। এছাড়াও তৌকির রাজা খান, তাঁর সহযোগীরা এবং এক নিকটাত্মীয়কেও ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোট ১০টি এফআইআর দায়ের হয়েছে অশান্তির ঘটনায়। অশান্তি রুখতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, অশান্তিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *