France Protest Explained। ফ্রান্স জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ! বন্ধ থাকল আইফেল টাওয়ার

Spread the love

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের কঠোর নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ফ্রান্সে। বৃহস্পতিবার হাজার হাজার চাকরিজীবী, অবসরপ্রাপ্ত, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সারা দেশের ২০০টিরও বেশি শহরের রাস্তায় নেমে এসেছিলেন বিক্ষোভ দেখাতে। প্যারিসের প্লেস ডি’ইতালিয়া থেকে শুরু হয়েছিল একটি মিছিল। সেই মিছিলটি পুরো শহরকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ধর্মঘটের কারণে ফ্রান্সের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র আইফেল টাওয়ার পর্যন্ত বন্ধ ছিল। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, কমপক্ষে ১ লাখ ৯৫ হাজার বিক্ষোভকারী সারা দেশে রাস্তায় নেমেছিলেন, যার মধ্যে কেবল প্যারিসেই ২৪ হাজার জন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। শ্রমিক ইউনিয়নগুলি অবশ্য দাবি করেছে যে এই সংখ্যাটি আরও অনেক বেশি, ১০ লাখেরও ওপরে।

এই বিক্ষোভগুলি ফ্রান্সের প্রধান ইউনিয়ন যেমন সিজিটি, এফডিপি এবং সিএফডিটিক ডাকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উল্লেখ্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ২০২৬ সালের বাজেট নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যে গত মাস থেকে বিক্ষোভ এবং আন্দোলন চলছে ফ্রান্সে। বিক্ষোভকারীদের মূল স্লোগান হল: ‘ধনীদের উপর আরও কর চাপানো হোক, সরকারি পরিষেবায় কাটাছাঁট বন্ধ হোক!’ সরকারি পরিষেবায় প্রস্তাবিত ৪৪ বিলিয়ন ইউরোর কাটছাঁটের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ। অর্থনীতির হাল ফেরাতে দুটি সরকারি ছুটির দিন বাতিল এবং বেশ কিছু সামাজিক কল্যাণ প্রকল্প স্থগিত করার মতো পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে ফ্রান্সে। এর প্রতিবদেই এই বিক্ষোভ।

আইফেল টাওয়ারের অপারেটিং কোম্পানি সোসাইটি ডি’এক্সপ্লয়টেশন দে লা ট্যুর আইফেল (সেট)-এর সভাপতি জ্যঁ-ফ্রাঁসোয়া মার্টিনস জানান, বেশিরভাগ কর্মচারী ধর্মঘটে ছিলেন, তাই ‘জাতীয় ধর্মঘট আন্দোলনের’ কারণে টাওয়ারটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। টাওয়ারের প্রবেশপথে একটি সাইনবোর্ডে লেখা ছিল, ‘ধর্মঘটের কারণে আইফেল টাওয়ার বন্ধ রয়েছে, আমরা ক্ষমা চাইছি।’ অনলাইনে টিকিট কেনা পর্যটকদের অর্থ ফেরতের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিক্ষোভের জন্য আইফেল টাওয়ার বন্ধ করা হয়। এর আগে প্রথমবার গত ১৮ সেপ্টেম্বর ‘ব্লক এভরিথিং’ আন্দোলনের সময় বন্ধ ছিল আইফেল টাওয়ার।

ফ্রান্সে রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বাধীন সরকার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই ক্ষমতায় রয়েছে। এর জেরে সংসদে বাজেট আলোচনা নিয়ে অচলাবস্থায় রয়েছে। ইউনিয়নগুলি অভিযোগ করেছে যে সরকারি প্রকল্পে কাটছাঁট ধনীদের উপকার করবে, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় সাধারণ নাগরিকদের প্রভাবিত করছে। বিক্ষোভকারীরা এলভিএমএইচের সিইও বার্নার্ড আর্নল্টের মতো বিলিয়নিয়ারদের বিরুদ্ধে পোস্টার প্রদর্শন করে। তাঁর বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী দলগুলিও এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। সংসদে বছরের শেষের দিকে বাজেট বিলটি নিয়ে আলোচনা হবে, যেখানে ইউনিয়নগুলি আরও চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *